“বারে মহিলাদের কাজে আর আইনি বাধা থাকছে না”-BIG STEP নিলো মমতা সরকার

রাজ্যের ‘অন ক্যাটেগরি’ লিকার শপে (যেখানে বসে মদ্যপানের অনুমতি রয়েছে) এবার থেকে মহিলারা কাজ করতে পারবেন। লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে বুধবার রাজ্য বিধানসভায় ‘ফিনান্স বিল ২০২৫’ পেশ করেন অর্থ দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই বিলটি একই দিনে পাশও হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি পুরনো নিয়মে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন

এই সিদ্ধান্তের ফলে মহিলারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত বার, বার-সহ রেস্তোরাঁ, হোটেল, থিয়েটার কাম বার এবং যেসব জায়গায় মদ বিক্রির পাশাপাশি বসে খাওয়ার অনুমতি রয়েছে, সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “লিঙ্গ সাম্যের কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি মহিলাদের জন্য কর্মক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।” এই বিল কার্যকর হলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না।

পুরনো নিয়মে পরিবর্তন

‘দ্য বেঙ্গল এক্সাইজ অ্যাক্ট, ১৯০৯’-এর ২৫(২) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল যে, ‘অন ক্যাটেগরি’ লিকার শপে মহিলাদের নিয়োগ করা যাবে না। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক কাঠামো বদলেছে। আজ মহিলারা প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষদের সঙ্গে সমান তালে কাজ করছেন। হোটেল ম্যানেজমেন্টের মতো কোর্সে মহিলাদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পুরনো আইন সংশোধনের মাধ্যমে মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হল।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত মহিলাদের কর্মজীবনে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। হোটেল ও বার শিল্পে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়লে এই খাতে আরও বৈচিত্র্য ও পেশাদারিত্ব আসবে। একজন হোটেল ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, “এই পদক্ষেপ আধুনিক সমাজের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহিলারা এই ক্ষেত্রে কাজ করলে তাঁদের আর্থিক স্বাধীনতা বাড়বে এবং শিল্পটিও উপকৃত হবে।”

‘ফিনান্স বিল ২০২৫’-এর মাধ্যমে রাজ্য সরকার লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মহিলারা ‘অন ক্যাটেগরি’ লিকার শপে কাজের সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের কর্মজীবনের পরিধি আরও প্রসারিত করবে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে সামাজিক অগ্রগতির একটি উজ্জ্বল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।