দূষণের প্রতিবাদে দুর্গাপুরে উত্তেজনা, পর্ষদ কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভকারী আটক

অন্ডালের ডিভিসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি সিমেন্ট কারখানা থেকে নির্গত দূষণের জেরে গোপালমাঠ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ জেরবার। এই দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দুর্গাপুর ভূমি রক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি গণস্বাক্ষর অভিযান আয়োজন করা হয়। সাধারণ মানুষের স্বাক্ষর সম্বলিত প্রতিবাদপত্র নিয়ে বুধবার দুর্গাপুর ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দুর্গাপুর কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন।
তবে, বিক্ষোভ শুরু হতে না হতেই দুর্গাপুর সিটি সেন্টার থানার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে থানায় আটক করে। এই ঘটনায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দূষণের প্রতিবাদে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ায় পুলিশ তাদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে এবং পরে তাদের জোর করে আটক করে।
দূষণের অভিযোগ ও বিক্ষোভ
দুর্গাপুর ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অন্ডালের ডিভিসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত ছাই এবং গোপালমাঠ সংলগ্ন একটি সিমেন্ট কারখানার ধোঁয়ায় গোটা এলাকার মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি বলেন, “ডিভিসির ছাইয়ে গোপালমাঠ এলাকা ঢাকা পড়েছে। এছাড়া সিমেন্ট কারখানার ধোঁয়ায় এলাকাবাসীর নিঃশ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে উঠেছে।”
বিক্ষোভকারীদের দাবি, তারা একাধিকবার দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই প্রতিবাদে বুধবার সকাল থেকে তারা পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের দুর্গাপুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে নেমেছিলেন।
পুলিশি বাধা ও আটক
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের অবস্থান বিক্ষোভ তুলে দিতে বাধ্য করে এবং জোর করে থানায় নিয়ে যায়। ধ্রুবজ্যোতি মুখোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ কারখানাগুলির পক্ষে কাজ করছে। তারা আমাদের দূষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেও দিচ্ছে না।”
দুর্গাপুর থানার পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করলেও, এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা জানান, পুলিশি বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন চলবে। তারা দাবি করেছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং প্রশাসন যেন অবিলম্বে এই সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ
গোপালমাঠ এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দূষণের সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয়রা জানান, ডিভিসির তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সিমেন্ট কারখানার দূষণের কারণে তাদের ফুসফুসজনিত রোগ, চর্মরোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে। এছাড়াও, দূষণের কারণে এলাকার কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আজ আমাদের প্রতিবাদে পুলিশি বাধা আরও বেদনাদায়ক। আমরা কি আমাদের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য লড়াই করার অধিকারও হারিয়ে ফেলেছি?”
ভবিষ্যৎ আন্দোলনের ইঙ্গিত
দুর্গাপুর ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, পুলিশি বাধা সত্ত্বেও তাদের আন্দোলন থেমে থাকবে না। তারা আগামী দিনগুলিতে আরও বড় আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন। তাদের দাবি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং রাজ্য সরকার যেন অবিলম্বে কারখানাগুলির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং এলাকাবাসীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসীরা আশা করছেন, এই প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি পূরণে সফল হবে এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ ফিরে পাবে গোপালমাঠ এলাকা।