কর্ণাটকে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু, ৪২ ডিগ্রি পার বলে জানালো হাওয়া অফিস

কর্ণাটকে তীব্র তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে, যা আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। উত্তর কর্ণাটকের বিভিন্ন এলাকায় এই তাপপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। কালাবুর্গি, চিকমাগালুর, কোডাগু এবং চামারাজানাগর জেলায় তাপমাত্রা ক্রমশ উর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে কালাবুর্গিতে তাপমাত্রা ৪২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত উত্তর কর্ণাটকের বেশ কয়েকটি জেলায় তাপপ্রবাহ চলবে। কালাবুর্গিতে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অস্বস্তি ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকমাগালুর, কোডাগু এবং চামারাজানাগর জেলাতেও মার্চের মাঝামাঝি থেকেই তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যা এলাকাবাসীর জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই তাপপ্রবাহ শুধু কর্ণাটকেই সীমাবদ্ধ নেই। অন্ধ্রপ্রদেশেও ১৮ মার্চ থেকে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৮টি মণ্ডলে (ব্লকে) দাবদাহ পরিস্থিতি চলছে, যা স্থানীয় জনজীবনকে ব্যাহত করছে। অন্যদিকে, ওড়িশাতেও প্রচণ্ড গরম পড়তে শুরু করেছে। তবে ওড়িশায় আর কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃষ্টিপাতের ফলে সেখানে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানান, মার্চ মাসে এমন তাপপ্রবাহ অস্বাভাবিক নয়, তবে এবারের তাপমাত্রা গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান, সরাসরি সূর্যের আলো এড়ানো এবং হালকা রঙের পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্ণাটক সরকারও তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যগত সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে।

এই তাপপ্রবাহের প্রভাবে কৃষি ও পানির উৎসের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর কর্ণাটকের কৃষকরা ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে চিন্তিত।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০ মার্চের পর থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে তার আগ পর্যন্ত কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার বাসিন্দাদের এই দাবদাহ মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে হবে।