“অবশেষে মহাকাশ স্টেশন থেকে ফিরলেন পৃথিবীতে ফিরলেন সুনীতারা”- জানিয়ে দিলো NASA

অবশেষে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) থেকে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে মহাকাশে আটকে থাকার পর স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে চড়ে তারা ফ্লোরিডার উপকূলে অবতরণ করেছেন। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে (ইটি) তারা পৃথিবীতে পা রাখেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও দুই নভোচারী—নাসার নিক হেগ এবং রাশিয়ার রসকসমসের আলেক্সান্দর গোরবুনভ।
ফেরার প্রক্রিয়া
সুনীতা ও বুচকে ফিরিয়ে আনতে গত রোববার সকালে আইএসএস-এ পৌঁছেছিল স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযান। এই যানে ছিলেন নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সার প্রতিনিধি টাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার কিরিল পেসকভ। তারা আইএসএস-এর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এরপর মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ক্রু ড্রাগন যানটি আইএসএস থেকে বিচ্ছিন্ন (আনডকিং) হয়। প্রায় ১৭ ঘণ্টার যাত্রা শেষে সুনীতা ও বুচ পৃথিবীতে ফিরেছেন।
কীভাবে আটকে গিয়েছিলেন?
গত বছরের ৫ জুন সুনীতা এবং বুচ বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে চড়ে আট দিনের একটি পরীক্ষামূলক সফরে আইএসএস-এ গিয়েছিলেন। কিন্তু স্টারলাইনারে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। থ্রাস্টার সমস্যা এবং হিলিয়াম লিকের কারণে নাসা যানটিকে পৃথিবীতে ফেরার জন্য নিরাপদ মনে করেনি। ফলে সেপ্টেম্বরে স্টারলাইনারটি খালি অবস্থায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়, আর সুনীতা ও বুচ আইএসএস-এ থেকে যান। তাঁদের আট দিনের সফর দীর্ঘ নয় মাসে রূপ নেয়।
বারবার বিলম্ব
তারপর থেকে একাধিকবার তাঁদের ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে প্রতিবারই তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্সের ক্রু-৯ মিশনের মাধ্যমে তাঁদের ফেরানো সম্ভব হল। গত সেপ্টেম্বরে নিক হেগ এবং আলেক্সান্দর গোরবুনভ দুটি খালি আসন নিয়ে আইএসএস-এ পৌঁছেছিলেন, যা সুনীতা ও বুচের জন্য রাখা হয়েছিল।
ফেরার পর
ফ্লোরিডার উপকূলে অবতরণের পর সুনীতা ও বুচকে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুল থেকে বের করে আনা হয়। দীর্ঘ মহাকাশযাত্রার পর তাঁরা হাসিমুখে পৃথিবীর মাটিতে পা রাখেন। নাসা জানিয়েছে, তাঁরা এখন চিকিৎসা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাবেন এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য প্রস্তুতি নেবেন।
এই ঘটনা মহাকাশ গবেষণার ঝুঁকি এবং অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তবে স্পেসএক্স এবং নাসার সমন্বিত প্রচেষ্টায় সুনীতা ও বুচের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে।