ব্রাজিলে বাদুড়ের শরীরে মিলল নতুন করোনাভাইরাস, কতটা ঝুঁকি? কি বলছে বিজ্ঞানীরা?

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে বাদুড়ের মধ্যে গবেষকরা একটি নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত করেছেন। এতে মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুনভাবে আবিষ্কৃত এই ভাইরাসটির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের শ্বাসযন্ত্রজনিত সিনড্রোম ‘মার্স-কোভ’-এর বেশ মিল রয়েছে। তবে এটি মানুষের সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ ও ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য ও গবেষণা
জার্নাল অব মেডিকেল ভাইরোলজিতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সাও পাওলো ও সিয়ারার বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ভাইরাসটির জিনগত ক্রমের প্রায় ৭২ শতাংশ মিল রয়েছে মার্স-কোভের সঙ্গে। বিশেষ করে, ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিন মার্স ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে সৌদি আরবে প্রথম শনাক্ত হওয়া মার্স ভাইরাসের সংক্রমণে এখন পর্যন্ত ৮৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
গবেষণার অন্যতম লেখক ব্রুনা স্টেফানি সিলভারিও বলেন, “ভাইরাসটি মানুষের সংক্রমণ ঘটাতে পারে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আমরা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের কিছু অংশ শনাক্ত করেছি, যা মার্স-কোভের ব্যবহৃত রিসেপ্টরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।”
তিনি আরও জানান, চলতি বছরে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ভাইরাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। গবেষকরা পরীক্ষা করবেন, ভাইরাসটি মানবকোষের সঙ্গে কতটা সংযুক্ত হতে পারে এবং এটি মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে কি না।
বাদুড় ও ভাইরাস গবেষণা
বাদুড়কে প্রাকৃতিকভাবে ভাইরাস বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ তারা সার্স, মার্স এবং ইবোলা-সহ বেশ কয়েকটি মহামারির সঙ্গে সংযুক্ত। তবে বেশিরভাগ বাদুড় বাহিত ভাইরাস মানুষের জন্য সংক্রমণ ঘটায় না।
গবেষণার সিনিয়র বিজ্ঞানী রিকার্ডো ডুরেইস-কারভালহো বলেন, “বাদুড় গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভাইরাল জলাধার। তাই আমাদের ক্রমাগত নজরদারি প্রয়োজন। আমাদের বুঝতে হবে, ভাইরাসগুলো কীভাবে অন্য প্রাণী কিংবা মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।”
গবেষণার ফলাফল
গবেষণায় ১৬টি ভিন্ন প্রজাতির ৪২৩টি বাদুড়ের মুখ ও মলদ্বারের সোয়াব পরীক্ষা করা হয়। এতে উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলের ফোর্টালেজা শহরের পাঁচটি সোয়াবে সাতটি করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গবেষকরা দেখেছেন, এই নতুন ভাইরাসটির সঙ্গে মানুষের মধ্যে পাওয়া মার্স-সম্পর্কিত করোনাভাইরাসের জিনগত মিল রয়েছে।
এছাড়া গবেষকরা দেখেছেন, পাঁচটি বাদুড়ের মধ্যে দুটি ভিন্ন প্রজাতির ছিল— মোলোসাস, যা কীটপতঙ্গভোজী এবং আর্টিবিয়াস লিটুরাটাস, যা ফলাহারী। ব্রাজিলে পাওয়া নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক সিকোয়েন্স মার্স-কোভের জিনোমের সঙ্গে ৭২ শতাংশ মিল রয়েছে।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ভাইরাসটি ভবিষ্যতে মানুষের জন্য কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।