“তারাপীঠে উন্নয়নের নামে যে ৫০০ টাকা…!”- মন্দিরে দেদার দুর্নীতিতে সরব সেবায়েত, করলেন অভিযোগ

বীরভূমের বিখ্যাত তারাপীঠ মন্দিরে আর্থিক দুর্নীতি এবং ভিআইপি লাইনে পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন মন্দিরের সেবায়েত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সকালে তিনি মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডের দফতরে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
ভিআইপি লাইনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তারাপীঠ মন্দিরে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন ভিআইপি—রাজ্যের মন্ত্রী, শাসকদলের নেতা-নেত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা—গর্ভগৃহে প্রবেশ করে পুজো দেন। কিন্তু গতকাল তাঁর চারজন আত্মীয় ভিআইপি লাইনে পুজো দিতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় এই বৈষম্যের জন্য দায়ী। তিনি আরও জানান, সুকুমার মুখোপাধ্যায় ভিআইপি লাইনে পুজো দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন এবং মন্দিরের বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব
স্মারকলিপিতে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেছেন, মন্দিরে ভিআইপি পুজোর জন্য ৫০০ টাকা ফি নেওয়া হলেও, এই অর্থের কোনও হিসাব রাখা হয় না। তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছর ধরে একই ব্যক্তি মন্দির কমিটির সভাপতির পদে রয়েছেন, যা নিয়মের পরিপন্থী। তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সভাপতি নির্বাচনের প্রথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। “উন্নয়নের নামে আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে,” বলে তিনি মহকুমা শাসকের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মহকুমা শাসকের প্রতিক্রিয়া
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর মহকুমা শাসক সৌরভ পান্ডে জানান, “অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে।” তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সত্যতা যাচাই করা হবে।
তারাপীঠে চাঞ্চল্য
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারাপীঠে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় ভক্ত ও মন্দিরে আগতরা এই অভিযোগে বিস্মিত। তবে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। ভিআইপি লাইনে পুজো দেওয়া নিয়ে পক্ষপাতিত্ব এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।
জনমানসে প্রশ্ন
তারাপীঠের মতো একটি পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে এমন অভিযোগে ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ কীভাবে ফলপ্রসূ হবে এবং মন্দিরের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ফিরবে কি না—তা নিয়ে সকলের দৃষ্টি এখন প্রশাসনের দিকে। তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে তারাপীঠের ভক্ত ও স্থানীয়রা।