বিশেষ: সুনীতা উইলিয়ামসের মতো মহাকাশচারী হতে চান? জানুন কোর্স ও কী কী দক্ষতা প্রয়োজন?

প্রায় নয় মাস মহাকাশে কাটিয়ে অবশেষে পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোর। স্পেসএক্সের মহাকাশযানে করে তাঁরা নিরাপদে ফ্লোরিডার সমুদ্রে অবতরণ করেছেন। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা নাসা এবং স্পেসএক্সের দলের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফসল। সুনীতা উইলিয়ামসের এই কৃতিত্ব অনেকের মনে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়েছে। তবে মহাকাশে যাওয়ার জন্য কী কী গুণ থাকা দরকার এবং নাসা কীভাবে মহাকাশচারী নির্বাচন করে? আজ আমরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজব।
মহাকাশে ক্যারিয়ার: একটি অ্যাডভেঞ্চার
মহাকাশে কাজ করা মানে পৃথিবী থেকে দূরে এক অসাধারণ অভিযান। সুনীতা উইলিয়ামসের মতো মহাকাশচারী হতে হলে দরকার কঠোর পরিশ্রম, গভীর পড়াশোনা এবং অসীম আবেগ। আপনি যদি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বা চাঁদ-মঙ্গলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তবে স্কুলে গণিত ও পদার্থবিদ্যায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এই বিষয়গুলো মহাকাশচারী হওয়ার ভিত্তি।
কী পড়তে হবে?
মহাকাশচারী হওয়ার প্রথম ধাপ হলো ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজ্ঞান বা গণিতে স্নাতক ডিগ্রি। সুনীতা উইলিয়ামস ভৌত বিজ্ঞানে স্নাতক এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স করেছেন। তবে বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স বা পিএইচডি থাকলে সবচেয়ে ভালো। এরপর পাইলট প্রশিক্ষণ বা টেকনিক্যাল ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা জরুরি। শারীরিক সুস্থতাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মহাকাশে শূন্য মাধ্যাকর্ষণে শরীরের উপর চাপ পড়ে। এজন্য প্রতিদিন দৌড়, সাঁতার বা ব্যায়াম করা প্রয়োজন।
অভিজ্ঞতার গুরুত্ব
নাসায় মহাকাশচারী হতে হলে প্রথম শর্ত আমেরিকান নাগরিকত্ব। ভারতীয়দের জন্য ISRO একটি বিকল্প হতে পারে। নাসার জন্য দরকার কমপক্ষে ২ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতা এবং জেট বিমানে ১,০০০ ঘণ্টা উড়ানোর অভিজ্ঞতা। নির্বাচন প্রক্রিয়া কঠিন—লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ, মেডিকেল চেকআপ এবং প্রশিক্ষণের পরই চূড়ান্ত নির্বাচন হয়। একজন মহাকাশচারীর সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ ও নেতৃত্বের দক্ষতা থাকতে হবে। শূন্য মাধ্যাকর্ষণে থাকার প্রশিক্ষণও আবশ্যক।
নাসার প্রশিক্ষণ
নির্বাচিত প্রার্থীদের বলা হয় ASCAN (Astronaut Candidate)। তাঁদের ২ বছরের কঠিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। নাসা বিভিন্ন পরিবেশে—যেমন বড় পুল বা মরুভূমিতে—দক্ষতা পরীক্ষা করে। ভারতীয়রা ISRO-তে ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। এখানেও বিজ্ঞান বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি এবং শারীরিক সুস্থতা জরুরি।
ইতিহাস থেকে আজ
এক সময় মহাকাশ নিয়ে আমেরিকা-রাশিয়ার প্রতিযোগিতা ছিল। তখন সেনাবাহিনীর লোকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। চাঁদে পা রাখা ১২ জনই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ। কিন্তু এখন নাসা সবাইকে সুযোগ দিচ্ছে। সুনীতা উইলিয়ামসের সাফল্য প্রমাণ করে, স্বপ্ন আর পরিশ্রম থাকলে মহাকাশে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর এই যাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।