৯ মাস পর পৃথিবীর পথে সুনীতারা, স্পেস স্টেশন থেকে কীভাবে বিচ্ছিন্ন হলেন? দেখেনিন ভিডিও

দীর্ঘ ৯ মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) কাটানোর পর অবশেষে পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন নাসার মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর। তাঁদের বহনকারী স্পেসএক্স-এর ড্রাগন মহাকাশযান ইতিমধ্যে মহাকাশ স্টেশন থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের দিকে এগিয়ে আসছে। প্রায় ১৭ ঘণ্টার এই যাত্রা শেষে আগামী ১৯ মার্চ ভোররাতে ফ্লোরিডা উপকূলের সমুদ্রে অবতরণ করবে এই যান।

৯ মাসের অপ্রত্যাশিত অভিযান

গত বছরের ৫ জুন সুনীতা এবং বুচ বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে করে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিলেন। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁদের মাত্র কয়েক দিন পরেই ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু স্টারলাইনারে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, বিশেষ করে থ্রাস্টার এবং হিলিয়াম লিকের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁদের ফেরা সম্ভব হয়নি। নাসা এই যানকে ফেরত আনার জন্য নিরাপদ মনে করেনি। ফলে তাঁদের অবস্থান মহাকাশ স্টেশনেই দীর্ঘায়িত হয়েছে। এই সময়ে তাঁরা প্রায় ১৫০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন, যা মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

সুনীতা উইলিয়ামস এই দীর্ঘ সময় নিয়ে বলেছেন, “মহাকাশে থাকতে আমার ভালোই লাগে।” তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সময় বেড়ে যাওয়ায় দায়িত্বও বেড়েছে। তাঁর এই ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও, ভক্ত ও পরিবারের সদস্যরা তাঁদের ফিরে আসার জন্য মুখিয়ে ছিলেন।

ড্রাগনের পৃথিবীতে ফেরার প্রক্রিয়া

স্পেসএক্স-এর ড্রাগন মহাকাশযানটি মহাকাশ স্টেশন থেকে ফেরার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। প্রথমে এটি স্টেশনের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপর ‘ডি-অরবিট বার্ন’ নামে একটি প্রক্রিয়ায় থ্রাস্টারগুলি নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানো হয়, যাতে যানটি ধীরে ধীরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দিকে নামতে শুরু করে।

বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানটি তীব্র ঘর্ষণের মুখোমুখি হয়, যা থেকে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এই তাপ এতটাই তীব্র যে, এটি গ্রহাণুকেও পুড়িয়ে ছাই করে দিতে পারে। ড্রাগনের হিট শিল্ড এই তাপ শোষণ করে যানটিকে রক্ষা করে। এটিই ফেরার সবচেয়ে জটিল ও বিপজ্জনক অংশ। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় প্যারাসুট খুলে যায়, যা যানের গতি কমিয়ে আনে। সবশেষে সমুদ্রে অবতরণ করে যানটি ভাসতে থাকে। এরপর উদ্ধারকারী দল জলযান নিয়ে ক্যাপসুলটি উদ্ধার করে।

ফ্লোরিডায় অবতরণ

হিসাব অনুযায়ী, ড্রাগন মহাকাশযানটি ১৯ মার্চ ভোররাতে (ভারতীয় সময়ে প্রায় ৩:২৭) ফ্লোরিডা উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করবে। নাসা এবং স্পেসএক্স এই ঘটনার সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। সুনীতা ও বুচের সঙ্গে ফিরছেন নাসার নিক হেগ এবং রাশিয়ার কসমোনট আলেক্সান্দর গোরবুনভও, যাঁরা ক্রু-৯ মিশনের অংশ হিসেবে গত সেপ্টেম্বরে মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছিলেন।

অপেক্ষার অবসান

সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোরের এই ফিরে আসা শুধু তাঁদের পরিবারের জন্যই নয়, মহাকাশ গবেষণার জগতেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাঁদের ৯ মাসের এই অভিযান বোয়িংয়ের স্টারলাইনারের ব্যর্থতার পর স্পেসএক্স-এর নির্ভরযোগ্যতাকেও তুলে ধরেছে। এখন সবার চোখ ফ্লোরিডার সমুদ্র উপকূলের দিকে, যেখানে এই দুই মহাকাশচারী আবার পৃথিবীর মাটিতে পা রাখবেন।