বাংলার নাট্যজগতে নেমে এল শোকের ছায়া,” প্রয়াত পথিকৃৎ হরিমাধব মুখোপাধ্যায়, বন্ধুর স্মৃতিচারণে শ্যামল চক্রবর্তী

বাংলার নাট্যজগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রবীণ নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায় সোমবার (১৭ মার্চ) রাত ৯:১০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। নাট্যমঞ্চ থেকে চিরতরে বিদায় নিলেন এই কিংবদন্তি শিল্পী, যাঁর অবদান আজও বাংলার নাট্য দুনিয়ার মাইলস্টোন হয়ে রয়ে গেল।

নাট্যজগতে অপুরণীয় ক্ষতি

তাঁর প্রয়াণে বাংলা নাট্যজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব শ্যামল চক্রবর্তী তাঁকে স্মরণ করে লিখেছেন, “এরপর আর তর্ক করব কার সঙ্গে? ঝগড়া করব কার সঙ্গে? আদর দেবে কে?”

হরিমাধব মুখোপাধ্যায় ছিলেন এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু নাটকের জন্যই বেঁচে ছিলেন। তাঁর নাট্যজীবন শুরু হয়েছিল ছোটবেলা থেকেই। পরবর্তী সময়ে তিনি বালুরঘাটের ‘ত্রিতীর্থ’ গড়ে তোলেন, যা বাংলা নাটকের জগতে এক উল্লেখযোগ্য সংযোজন।

বন্ধুর স্মৃতিচারণে শ্যামল চক্রবর্তী

হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে শ্যামল চক্রবর্তীর সম্পর্ক ছিল অনেক গভীর। স্মৃতিচারণে তিনি লিখেছেন,
“বালুরঘাটে গিয়ে এমন এক ব্যক্তিত্বর সঙ্গে আমার এত সখ্যতা হবে, তা কখনও ভাবিনি। কত তর্ক হয়েছে, আবার কত স্নেহও পেয়েছি। একবার যখন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় বালুরঘাটে গিয়েছিলাম, উনি ছুটে এসে বললেন— ‘তুই আমার বাড়িতে চল, এখানেই থাকবি’। ওখানে দাঁড়িয়েও ঘণ্টা চারেক তর্ক চলল। আবার স্নেহও পেয়েছি ঠিক ততটাই।”

মঞ্চ থেকে বিদায়, স্মৃতিতে চিরস্থায়ী

হরিমাধব মুখোপাধ্যায় ‘নটধা’র ‘মহাভারত’ নাটকে ভীষ্ম চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেই চরিত্রের দায়িত্ব পরে নিতে হয়েছিল শ্যামল চক্রবর্তীকে। তাঁর অসুস্থতা দীর্ঘদিনের, তবে নাট্যজগত তাঁকে এতদিন ধরে ধরে রেখেছিল। কিন্তু এবার তিনি চিরতরে মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন।

শেষ বিদায়

বাংলার নাট্যপ্রেমীদের কাছে হরিমাধব মুখোপাধ্যায় শুধুমাত্র একজন নাট্যব্যক্তিত্ব ছিলেন না, ছিলেন এক বটবৃক্ষ। আজ সেই বৃক্ষ পড়ে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া নাট্যকীর্তি বাংলার মঞ্চে চিরকাল বেঁচে থাকবে।