টানা ৪ দিন বন্ধ ব্যাঙ্ক, ব্যহত থাকবে ATM পরিষেবাও, আগেভাগেই সেরে রাখুন দরকারি কাজ

মার্চ মাসের শেষে ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির টানা চার দিনের সম্ভাব্য বন্ধ। ২২ মার্চ থেকে শুরু করে সপ্তাহান্তের ছুটি এবং দুই দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের জেরে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শুধু ব্যাঙ্কের শাখাই নয়, এটিএম পরিষেবাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়নস (ইউএফবিইউ), যিনি ব্যাঙ্কের ৯টি কর্মী ও আধিকারিক সংগঠনের মিলিত মঞ্চ, আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চ (সোমবার ও মঙ্গলবার) দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই ধর্মঘটের মূল দাবি হলো ব্যাঙ্কে সব স্তরে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ। এছাড়াও, অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ এবং সপ্তাহে ৫ দিন কাজের ব্যবস্থা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠেছে আন্দোলনকারীদের তরফে।
কেন এত সমস্যা?
সমস্যার শুরু ২২ মার্চ থেকে, যিনি চতুর্থ শনিবার, এবং ২৩ মার্চ রবিবার—এই দুই দিনে ব্যাঙ্কের নিয়মিত ছুটি থাকবে। এর ঠিক পরেই ২৪ ও ২৫ মার্চ ধর্মঘটের কারণে ব্যাঙ্কের শাখাগুলি বন্ধ থাকবে। ফলে টানা চার দিন গ্রাহকরা ব্যাঙ্কিং পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। এটিএম পরিষেবাও এই সময়ে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধর্মঘটের দিনগুলিতে এটিএমে টাকা ভরার কাজ বন্ধ থাকতে পারে, যার জেরে অনেক এটিএমে নগদের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এমনকি ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর ২৬ মার্চ (বুধবার) এটিএম পরিষেবা স্বাভাবিক হতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
প্রভাবের পরিধি
রাজ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ৫,৪৩৩টি শাখা এবং ৭,৬৭২টি এটিএম রয়েছে, যেগুলির উপর এই ধর্মঘটের প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে নগদ উত্তোলন, চেক ক্লিয়ারেন্স, ঋণ প্রক্রিয়াকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বন্ধ থাকতে পারে। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলি এই ধর্মঘটে অংশ না নিলেও, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ভোগান্তি অবশ্যম্ভাবী।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
রাজ্যে ইউএফবিইউ-র আহ্বায়ক সুদীপ দত্ত বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের একজন কর্মী গড়ে ২,০০০ গ্রাহককে পরিষেবা দেন, যেখানে বেসরকারি ব্যাঙ্কে এই সংখ্যা মাত্র ৩০০। বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে নিয়মিত কর্মী নিয়োগ হলেও, কেন্দ্র সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। এর ফলে কর্মীদের উপর কাজের চাপ বাড়ছে এবং গ্রাহকদের পরিষেবার মান কমছে।” তিনি আরও জানান, “সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি পূরণে এগিয়ে না আসায় এই ধর্মঘট অনিবার্য হয়ে পড়েছে।”
গ্রাহকদের প্রস্তুতি
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় নগদ মজুত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্কিং কাজ আগেভাগে সেরে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইউএফবিইউ জানিয়েছে, তারা জনগণের সমর্থন চায় এবং এই অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে। তবে ধর্মঘটের ফলে মার্চের শেষ সপ্তাহে ব্যাঙ্কিং পরিষেবার উপর যে বড় ধরনের ধাক্কা পড়তে চলেছে, তা এড়ানোর উপায় আপাতত নেই।