‘জমির বিনিময়ে চাকরি’ কেলেঙ্কারি মামলায় ফের জেরা রাবড়ি দেবী ও মিশা ভারতী

‘জমির বিনিময়ে চাকরি’ কেলেঙ্কারি মামলায় ফের জেরার মুখে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং তাঁর কন্যা মিশা ভারতী। মঙ্গলবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তরফে পাটনায় তাদের হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই মামলায় লালু প্রসাদের পরিবারের সদস্যদের নাম জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। রাবড়ি দেবী এবং মিশা ভারতী নির্দিষ্ট সময়ে পাটনার ইডি অফিসে হাজির হন এবং জেরার মুখোমুখি হন।
কী এই ‘জমির বিনিময়ে চাকরি’ কেলেঙ্কারি?
‘জমির বিনিময়ে চাকরি’ কেলেঙ্কারি মামলাটি বিহারে লালু প্রসাদের শাসনামলের সময়ের। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন লালু প্রসাদের পরিবার এবং ঘনিষ্ঠরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমি গ্রহণ করেছিলেন। বিনিময়ে তাদের রেলওয়েতে চাকরি দেওয়া হয়। এই কেলেঙ্কারিতে লালু প্রসাদের পরিবারের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইডি এবং সিবিআই এই মামলার তদন্ত করছে।
ইডির জেরা
ইডি এই মামলায় লালু প্রসাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে। রাবড়ি দেবী এবং মিশা ভারতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তারা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন এবং জমি লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লাভ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে পাটনার ইডি অফিসে তাদের জেরা করা হয়।
রাবড়ি দেবী ও মিশা ভারতীর প্রতিক্রিয়া
জেরার পর রাবড়ি দেবী এবং মিশা ভারতী মিডিয়াকে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা ইডির সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন এবং এই মামলায় তাদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপি নেতারা লালু প্রসাদের পরিবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছে।
উপসংহার
‘জমির বিনিময়ে চাকরি’ কেলেঙ্কারি মামলায় রাবড়ি দেবী এবং মিশা ভারতীর জেরা বিহারের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইডির তদন্ত কী ফলাফল দেয়, তা এখন সকলের চোখ রাখা রয়েছে। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে লালু প্রসাদের পরিবারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আরও জটিল আকার নিতে পারে। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কী দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয়।