ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট এবার শিক্ষকের চাকরিতেও, স্কুল সার্ভিস কমিশনকে পুলিশের তরফ থেকে চিঠি

রাজ্যে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটের কেলেঙ্কারি এবার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও ছড়াল। স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)-কে সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের তরফে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই চিঠিতে তিনজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার অভিযোগ তদন্তের জন্য বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে উত্তর দিতে হবে এবং তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের তদন্ত
রাজ্য পুলিশের তরফে অভিযোগ পাওয়ার পরই এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই তিনজনের নামে ইতিমধ্যেই পুলিশ স্কুল সার্ভিস কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে ওই তিনজনের নামে আরও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
স্কুল সার্ভিস কমিশনের এক আধিকারিক জানান, “পুলিশের তরফে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা তদন্তের জন্য যথেষ্ট নয়। আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। আমরা পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করব এবং এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করব।”
কাস্ট সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ
রাজ্যে কাস্ট সার্টিফিকেট জালিয়াতির অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এমন অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্কুল সার্ভিস কমিশন এখন পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী ওই তিনজনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই এই বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর নজরদারির দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার দাবি জানাচ্ছেন অনেকেই।
এই কেলেঙ্কারির তদন্ত কীভাবে এগোয়, তা এখন সকলের চোখ রাখা রয়েছে। রাজ্য পুলিশ এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে এই বিষয়ে আরও তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করা হতে পারে।