আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফের সম্মানিত বাংলা তথা ভারত, হোলবার্গ পুরস্কার-এ ভূষিত বাঙালি বিদূষী

আবারও বিশ্বমঞ্চে বাংলার গৌরব। এ বছরের হোলবার্গ পুরস্কারে সম্মানিত হতে চলেছেন খ্যাতনামা বাঙালি বিদূষী গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক। আগামী ৫ জুন নরওয়ের বার্গেন শহরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নরওয়ের যুবরাজ হাকোনের হাত থেকে এই সম্মান গ্রহণ করবেন তিনি। কলাবিদ্যা, আইন, ধর্মতত্ত্ব এবং সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয় এই পুরস্কার, যা নোবেল পুরস্কারের সমতুল্য বলে বিবেচিত। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৫ লক্ষ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।
উত্তর-ঔপনিবেশিক গবেষণায় পথিকৃৎ গায়ত্রী স্পিভাক
গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের নাম বিশ্বের প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর লেখা “Can the Subaltern Speak?” উত্তর-ঔপনিবেশিক তত্ত্বের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী গবেষণা হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও, ফরাসি দার্শনিক জাক দেরিদার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Of Grammatology’-এর ইংরেজি অনুবাদ করে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত হন তিনি। হলবার্গ কমিটি জানিয়েছে, গায়ত্রীর সাহিত্য সমালোচনা, রাজনৈতিক দর্শন ও সমাজবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান আধুনিক মানবিক গবেষণার ক্ষেত্রে অমূল্য।
শিক্ষার উন্নতিতে নিরলস কাজ
শুধু গবেষণা নয়, ভারতের গ্রামীণ শিক্ষার উন্নতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন গায়ত্রী। অভিজাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তৃণমূল স্তরের শিক্ষার মধ্যে ব্যবধান ঘোচানোর লক্ষ্যে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
হলবার্গ পুরস্কারের ইতিহাস
২০০৩ সালে শুরু হওয়া হলবার্গ পুরস্কার এর আগে জুডিথ বাটলার, ক্যাস সানস্টেইন এবং ওনোরা ও’নিলের মতো বিশ্ববিখ্যাত চিন্তাবিদদের সম্মানিত করেছে। এ বছর গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের নাম সংযোজিত হওয়ায়, আন্তর্জাতিক গবেষণা ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হল।
বাঙালি মননে গর্বের মুহূর্ত
গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের এই অসামান্য স্বীকৃতি শুধুমাত্র বাংলার নয়, গোটা ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তুলনামূলক সাহিত্য, নারীবাদ, প্রান্তিক জনের ইতিহাস ও উত্তর-ঔপনিবেশিক চিন্তাধারায় তাঁর অবদান আগামী প্রজন্মের গবেষকদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।
বিশ্বমঞ্চে বাংলার আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করলেন গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক।