ছেলেবেলা কেটেছে ভীষণ কষ্টে, স্মৃতি শেয়ার করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ মোদী

রবিবার সন্ধ্যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি বিশেষ চমক দিলেন। মার্কিন পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর শৈশব, জীবনযাত্রা, এবং রাজনীতির প্রতি আগ্রহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এই আলোচনা ছিল এক গভীর আলাপচারিতা, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও ছোট ছোট গল্প শেয়ার করেছেন।

গুজরাটের ভাটনগরে জন্মগ্রহণ করা প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর শৈশবের দিনগুলির কথা তুলে ধরে জানান, তিনি অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন। তবে, সেই অভাব কখনও তাঁর কাছে একটি বোঝা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং, মানুষের ভালোবাসা ও স্নেহের মধ্যে দিয়ে তিনি জীবনের অর্থাভাব কাটিয়ে উঠেছিলেন। তাঁর কথায়, “প্রচুর কষ্টের মধ্যে বড় হতে হলেও, কখনও বঞ্চনা শিকার হতে হয়নি আমাকে। মানুষের স্নেহেই কেটে গিয়েছিল জীবনের অর্থাভাব।”

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী একটি ছোট্ট কিন্তু গভীর স্মৃতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “ছেলেবেলায় আমার কাকা আমাকে একটা সাদা রঙের জুতো দিয়েছিল। অন্যদের কাছে জুতো পরিষ্কারের সামগ্রী থাকলেও, আমার কাছে তা ছিল না। তাই স্কুলের ফেলে দেওয়া চকগুলোকে দিয়ে সেই সাদা জুতো ঝাঁ চকচকে রাখার চেষ্টা করতাম। অর্থাভাবকে কখনওই আমি সংগ্রাম হিসাবে দেখিনি।” এই স্মৃতিগুলি প্রধানমন্ত্রী মোদীর জীবনের সেই সময়গুলোকে তুলে ধরে, যখন তিনি কষ্টের মধ্যেও নিজেকে শক্তিশালী ও আশাবাদী হিসেবে গড়ে তুলতে পেরেছিলেন।

মোদী আরও জানান, তাঁর শৈশবের অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস ও দৃঢ়তা দিয়েছে, এবং সেই শিক্ষাই তাকে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর মতে, “যতই দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটুক না কেন, যদি মানুষের ভালোবাসা থাকে, তাহলে তা সব কিছু থেকে বড় হয়ে ওঠে।”

এই আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর জীবনধারার এক নতুন দিক তুলে ধরলেন, যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রামের কাহিনী নয়, বরং ভারতের অগণিত সাধারণ মানুষের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।