Supreme Court-এর বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ জয়মাল্যর, ক’দিনের মেয়াদে ২০৩১-এ CJI হবেন তিনি?

আজ, সোমবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। তাঁকে শপথবাক্য পড়িয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না। গত ৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সুপারিশের পর কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর নিয়োগে সম্মতি জানায়। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে দেশের শীর্ষ আদালতে উন্নীত করা হল। শপথ গ্রহণের সময় প্রধান বিচারপতি খান্না ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টে মোট ৩৪ জন বিচারপতির পদ থাকলেও, এতদিন দুটি পদ শূন্য ছিল। বিচারপতি বাগচীর নিয়োগের ফলে এখন আর মাত্র একটি পদ খালি রয়েছে। তাঁর এই নিয়োগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ তিনি আগামী ২০৩১ সালের মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। তবে, তাঁর অবসরের সময় ২০৩১ সালের ২ অক্টোবর নির্ধারিত হয়েছে। ফলে প্রধান বিচারপতি হিসেবে তাঁর কার্যকাল হবে মাত্র চার মাসের কিছু বেশি সময়ের।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ২০১১ সালের জুন মাসে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টে স্থানান্তরিত করা হয় এবং ওই বছরের নভেম্বরে তিনি আবার কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে আসেন। হাইকোর্টে ১৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি আইনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গভীর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি হাইকোর্টের বিচারপতিদের সর্বভারতীয় সিনিয়রিটি তালিকায় ১১তম স্থানে ছিলেন।
বিচারপতি বাগচীর সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ কলকাতা হাইকোর্টের জন্যও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ২০১৩ সালে বিচারপতি আলতামাস কবীরের অবসরের পর থেকে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কোনও বিচারপতি ভারতের প্রধান বিচারপতি পদে নিযুক্ত হননি। বিচারপতি বাগচী ২০৩১ সালের ২৫ মে বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের অবসরের পর এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কেবলমাত্র বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত ছিলেন।
বিচারপতি বাগচীর এই উন্নীতকরণে কলেজিয়ামের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বে কলেজিয়ামে রয়েছেন বিচারপতি ভূষণ আর গাভাই, বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি বিক্রম নাথ। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনা ভারতীয় বিচার ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বিচারপতি বাগচীর সুপ্রিম কোর্টে যোগদানের ফলে শীর্ষ আদালতের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে আইনজ্ঞরা মনে করছেন। তাঁর দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সম্ভাবনা দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।