পাকিস্তানকে তোপ, তবে পূর্বের প্রতিবেশী চিনকে নিয়ে সুর ‘নরম’ প্রধানমন্ত্রীর?

মার্কিন পডকাস্টার লেক্স ফ্রিডম্যানের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় পাকিস্তানকে তীব্র সমালোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে অপর প্রতিবেশী দেশ চিনের বিষয়ে তার মন্তব্য ছিল তুলনামূলকভাবে নরম। ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোদী একটি ‘পরিবারের’ উদাহরণ তুলে ধরেন। সীমান্ত সমস্যা ও গত কয়েক বছরে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্পর্কের এই চিড় ধীরে ধীরে মেরামত হচ্ছে এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন যে চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও ভালো হবে।

মোদী বলেন, “দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা যাতে বিবাদে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করা উচিত।” তিনি জানান, গালওয়ান পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারত এখনও চিনের সঙ্গে পূর্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। মোদী আরো বলেন, “আমার বিশ্বাস দুই দেশের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে,” এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকের পর সীমান্তে স্বাভাবিক অবস্থা ফেরত এসেছে বলে উল্লেখ করেন।

পাকিস্তান সম্পর্কে মোদী মন্তব্য করেন, “বিশ্বের যে কোনও প্রান্তেই জঙ্গি হামলা হোক না কেন, তার সঙ্গে পাকিস্তানের যোগসূত্র মিলবেই।” তিনি ৯/১১ হামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ওসামা বিন লাদেন শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানেই ছিল।” মোদী আরও বলেন, “বিশ্ব জানে যে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী প্রবৃত্তি এবং মানসিকতা তৈরি হয়েছে, যা শুধু ভারত নয়, পুরো বিশ্বের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

মোদী দাবি করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য তিনি একাধিকবার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু প্রতিবারই তা বিশ্বাসঘাতকতার মুখে পড়েছে। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি, তবে প্রতিবারই তা শত্রুতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে প্রতিশোধের সম্মুখীন হয়েছে।”

শান্তি স্থাপনের জন্য তার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা নিয়েও কথা বলেন মোদী। তিনি জানান, “আমি নিজে লাহোরে গিয়েছিলাম, এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পাকিস্তানকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, কিন্তু প্রতিবারই সেই প্রচেষ্টা নেতিবাচক ফল দিয়েছে।” মোদী মনে করেন, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষও শান্তি চায়, তবে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্ত্রাসবাদী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের জীবন নষ্ট করছে।