অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বিয়ার কোম্পানির মালিকের আমন্ত্রণে বিদেশ যাচ্ছেন মমতা, দাবি CPIM-এর

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ২৭ মার্চ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেবেন বলে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেস যে প্রচার চালাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করেছে সিপিআইএম-এর মুখপাত্র গণশক্তি। সোমবার সকালে প্রকাশিত গণশক্তির প্রথম পাতার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এলিজাবেথ ব্রটরাইটের কাছে এই ধরনের কোনও অনুষ্ঠানের তথ্য নেই। বরং প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী এক গুজরাতি শিল্পপতির আমন্ত্রণে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন গবেষক বিশ্বনাথ গোস্বামী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ই-মেইল করে জানতে চেয়েছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত অনুষ্ঠানের সূচি আগাম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেই তালিকায় ২৭ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ভাষণ বা অনুষ্ঠানের উল্লেখ কেন নেই? জবাবে উপাচার্য এলিজাবেথ ব্রটরাইট স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন কোনও অনুষ্ঠানের কথা তাঁর জানা নেই। এই ই-মেইলটি ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে, যা তৃণমূলের প্রচারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছে।

গণশক্তির প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বরং লন্ডনের কেলগ কলেজ এবং ব্রিটেন প্রবাসী গুজরাতি শিল্পপতি করণ বিলিমোরিয়ার আমন্ত্রণে লন্ডন যাচ্ছেন। করণ বিলিমোরিয়া ‘কোবরা বিয়ার’ নামে পরিচিত একজন প্রখ্যাত শিল্পপতি। তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও রাজ্য সরকারের তরফে প্রচার করা হচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী অক্সফোর্ডে ‘সমাজ উন্নয়ন: নারী ও শিশুর ক্ষমতায়ন’ বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। এই দাবির সত্যতা নিয়ে এখন সন্দেহ প্রকাশ করছে বিরোধীরা।

জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ২১ মার্চ কলকাতা থেকে দুবাই হয়ে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তবে দুবাইয়ে তাঁর কী কর্মসূচি রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তৃণমূলের প্রচারের বিপরীতে গণশক্তির এই প্রতিবেদন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও এই অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। অনেকে মনে করছেন, তৃণমূল এই সফরকে অক্সফোর্ডের মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জুড়ে প্রচার চালাচ্ছে রাজনৈতিক মাইলেজ পাওয়ার জন্য। অন্যদিকে, সিপিআইএম-এর দাবি, এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করার একটি প্রয়াস। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।