লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড় ধাক্কা, পাকিস্তানে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি আবু কাতাল নিহত

পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড় ধাক্কা। শনিবার রাত ৮টায় দেশটির ঝেলম এলাকায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন সংগঠনের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি আবু কাতাল সিংঘি। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) তাকে ওয়ান্টেড ঘোষণা করেছিল। জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক বড় হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে পরিচিত আবু কাতাল ভারতীয় সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল।

আবু কাতাল ছিলেন ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ২০০৮ সালের ওই হামলায় লস্কর-ই-তৈবার ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে আক্রমণ চালিয়ে ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল। এই ঘটনা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলে এবং দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। হাফিজ সইদ আবু কাতালকে লস্করের প্রধান অপারেশনাল কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন এবং তার নির্দেশে কাশ্মীরে বড় ধরনের হামলা চালানো হয়।

গত ৯ জুন জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসিতে শিব-খোদি মন্দির থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীদের বাসে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আবু কাতাল। এছাড়া, ২০২৩ সালের রাজৌরি হামলার জন্যও তাকে দায়ী করেছিল এনআইএ। রাজৌরিতে ১ জানুয়ারি, ২০২৩-এ ধাঙ্গরি গ্রামে জঙ্গিরা অসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়। পরদিন একটি আইইডি বিস্ফোরণে দুই শিশুসহ সাতজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এনআইএ-র চার্জশিটে আবু কাতাল, সাইফুল্লাহ ওরফে সাজিদ জাট এবং মোহাম্মদ কাসিমের নাম উল্লেখ করা হয়। এই তিনজনই পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর জঙ্গি ছিলেন।

আবু কাতালের মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তার হত্যার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, যদিও জঙ্গি হামলার হুমকি এখনও রয়ে গেছে।