বিশেষ: ৩০০০শিশুর জীবন বাঁচিয়েছেন গায়িকা পলক মুচ্ছাল, যাকে দেখে অনুপ্রাণিত হন ড. দেবী শেঠিও

ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পলক মুচ্ছাল শুধু তাঁর মধুর কণ্ঠের জন্যই নয়, মানবসেবার অসাধারণ কাজের জন্যও বারবার প্রশংসিত হয়েছেন। বলিউডে একের পর এক হিট গান উপহার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি হয়ে উঠেছেন হাজারো শিশুর জীবন রক্ষাকারী এক মানবতার ফেরিওয়ালা। তাঁর সংগীতের মাধ্যমে শুধু শ্রোতাদের মন জয়ই নয়, দুঃস্থ শিশুদের জীবন বাঁচানোর এক অনন্য পথ তিনি বেছে নিয়েছেন।
শৈশব থেকেই মানবসেবার শুরু
পলকের মানবতার যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র সাত বছর বয়সে। কার্গিল যুদ্ধে আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য তিনি রাস্তায় গান গেয়ে ২৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। একই বছর উড়িষ্যায় বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে তিনি সংগৃহীত অর্থ দিয়েছিলেন। আট বছর বয়সে এক স্কুলছাত্রের হার্ট সার্জারির জন্য গান গেয়ে ৫১ হাজার টাকা তুলেছিলেন তিনি। এই উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হয়ে বিখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দেবী শেঠি বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করেছিলেন। এই ঘটনা পলকের জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
‘দিল সে দিল তক’ উদ্যোগ
এরপর থেকে পলক শুরু করেন দুঃস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের এক দীর্ঘ যাত্রা। ‘দিল সে দিল তক’ নামে তাঁর এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি স্টেজ শো করে অর্থ সংগ্রহ করতে থাকেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তিনি প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করেন এবং ২৩৪টি শিশুর হার্ট সার্জারির মাধ্যমে তাদের জীবন বাঁচান। এই কাজ তাঁকে শুধু একজন গায়িকা নয়, একজন মানবতার নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
পলক মুচ্ছাল হার্ট ফাউন্ডেশন
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘পলক মুচ্ছাল হার্ট ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আজ পর্যন্ত ৩,০০০-এরও বেশি শিশুর হার্ট অপারেশন করানো হয়েছে। পলকের কাছে কনসার্ট মানে শুধু গান গাওয়া নয়, বরং আরও কয়েকটি শিশুর জীবন বাঁচানোর সুযোগ। তিনি বলেন, “প্রতিটি গানের সঙ্গে আমি একটি জীবন বাঁচানোর স্বপ্ন দেখি।”
প্রচারের আড়ালে মহান কাজ
বলিউডে ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’, ‘এক থা টাইগার’র মতো হিট গানের গায়িকা হিসেবে খ্যাতি পেলেও পলক প্রচারের আলোয় খুব একটা আসতে পছন্দ করেন না। তাঁর এই মানবসেবার কাজ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে একজন সত্যিকারের নায়িকা করে তুলেছে। তাঁর গানের সুর যেমন শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়, তেমনই তাঁর এই উদ্যোগ ভারতের সংগীত ও মানবতার ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পলক মুচ্ছাল প্রমাণ করেছেন, সংগীত শুধু বিনোদন নয়, এটি জীবন বাঁচানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যমও হতে পারে। তাঁর এই অসাধারণ যাত্রা সকলের কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস।