বর্ণবাদ ও বৈষম্যর অভিযোগ, আমেরিকার ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ মার্কিন শিক্ষার্থীদের প্রতি বর্ণবাদ ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন শিক্ষামন্ত্রী লিন্ডা ম্যাকমাহন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বর্ণবাদ ও বৈষম্যমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই তদন্ত সেই লক্ষ্যেরই একটি অংশ।”

মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাগরিক অধিকার বিভাগ এই তদন্ত পরিচালনা করছে। বিভাগের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্তের সূচনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, যা মার্কিন শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই কর্মসূচির কারণে শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

নাগরিক অধিকার আইনের প্রয়োগ

মার্কিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে ১৯৬৪ সালে প্রণীত মার্কিন নাগরিক অধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্য ছিল গায়ের রঙের কারণে অশ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিদের বৈষম্য থেকে রক্ষা করা। আশ্চর্যজনকভাবে, এবার এই আইনটিই প্রয়োগ করা হচ্ছে শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের পক্ষে। তবে এই কর্মসূচির ফলে কোনও শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থী প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কে এখনও কোনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিতর্কের কেন্দ্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি

অভিযোগে বলা হয়েছে, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছে, যা মার্কিন শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সমালোচকদের মতে, এই কর্মসূচিগুলো স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি

যুক্তরাষ্ট্রে বৈচিত্র্যকে ধারণ করার সংস্কৃতি বেশ শক্তিশালী। ঐতিহ্যগতভাবে, যেসব জাতিসত্ত্বা, লিঙ্গ বা বর্ণের মানুষ পিছিয়ে রয়েছে, তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার নীতি প্রচলিত আছে। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই নীতি মেনে চলতে আগ্রহী নয়। সম্প্রতি ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানানোর অভিযোগে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ কোটি ডলারের তহবিল বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ঘটনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।

তদন্তের ভবিষ্যৎ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাগরিক অধিকার বিভাগ এই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ না করা পর্যন্ত এই বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক মহল।

সূত্র: রয়টার্স