টোটোর সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে মৃত ৭, বাস ভাঙচুর জনতা, ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা চাপড়ায়

নদিয়ার চাপড়ায় ইদের কেনাকাটা করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিশু সহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চাপড়া থানার চারাতলা পেট্রল পাম্পের কাছে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি টোটো ও একটি চার চাকার গাড়ির সংঘর্ষে এই ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কীভাবে ঘটনা ঘটল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোলের দিনে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্য ইদের কেনাকাটা করতে চাপড়ায় আসেন। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে চারাতলা পেট্রল পাম্পের কাছে তাদের টোটোটি একটি চার চাকার গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের impact এ টোটো ও গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। টোটো ও গাড়ির যাত্রীরা গুরুতর জখম হন।
মৃত ও আহতদের অবস্থা
দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে চাপড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক শিশু সহ তিনজনের মৃত্যু হয়। এরপর আহত আরও ১০ জনকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়। মৃতদের মধ্যে এক শিশু, চার মহিলা এবং দুই পুরুষ রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মৃতদের পরিচয়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের নাম তাকরিন মল্লিক (৩), সান্তা মণ্ডল (৩০), রহিমা সেখ (৩৫), পুতুল মল্লিক (২৬), অমিত ঘোষ (৩৫), রোহন সেখ (১৬) এবং পারভিন বিবি (৩৫)। তারা নাকাশিপাড়া থানার তেঘরি এবং চাপড়া থানার হুদা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে একটি যাত্রীবাহী বাসে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাসের চালক ও কন্ডাক্টর আহতদের নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তেজিত জনতা বাসের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের তদন্ত
চাপড়া থানার পুলিশ দুর্ঘটনার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি ও টোটো চালকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবিও উঠেছে।
এই ঘটনা সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং যানবাহন চালানোর সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা আবারও মনে করিয়ে দিল।