সামনেই পরীক্ষা, আবেদন করেও জামিন পেলেন না যাদব পুরের পড়ুয়া সৌম্যদীপ মাহান্ত

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সৌম্যদীপ মাহান্ত ওরফে উজানের জামিন আবেদন বৃহস্পতিবার আদালতে প্রত্যাখ্যান হয়েছে। এর ফলে তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ‘শিক্ষাবন্ধু’র অফিসে আগুন লাগার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এই মামলাতেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।

সৌম্যদীপ মাহান্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘উজান’ নামেই বেশি পরিচিত। বৃহস্পতিবার আদালতে সরকারি পক্ষের আইনজীবী একাধিক গ্রুপ চ্যাটের স্ক্রিনশট জমা দিয়ে দাবি করেন, সৌম্যদীপ ও তাঁর সহযোগীরা শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ির সামনে গোলমাল সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশ এলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে সৌম্যদীপের আইনজীবী এসব অভিযোগ নাকচ করে দেন। তিনি যুক্তি দেখান, সৌম্যদীপের ২৪ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় যেকোনো শর্তে জামিন দেওয়া উচিত। তবে আদালত দু’পক্ষের বক্তব্য শুনে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

সৌম্যদীপের গ্রেপ্তারে তাঁর বিভাগীয় শিক্ষক ও সহপাঠীরা বিস্মিত। তাঁরা জানান, সৌম্যদীপ মৃদুভাষী ও নরম স্বভাবের ছাত্র। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিনহা বলেন, ‘‘পড়ুয়ারা আতঙ্কিত। সব তদন্তেই পুলিশকে সাহায্য করছে তারা। পুলিশের উচিত আরও সংবেদনশীলভাবে পড়ুয়াদের সঙ্গে ব্যবহার করা।’’ তবে লালবাজারের দাবি, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সৌম্যদীপের সম্পৃক্ততার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

বুধবার সৌম্যদীপকে নোটিস দিয়ে থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতে হাজির করা হয় তাঁকে। অভিযোগকারীর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ‘‘যাদবপুরে ভালো পড়ুয়াদের পাশাপাশি এমন অনেকে আছেন, যাঁরা শুধু ঝামেলা সৃষ্টি করেন। ধৃত ছাত্র পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।’’ আদালতে ঘটনার সময়ের ছবি ও স্ক্রিনশট দেখানো হয়। বিচারক তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, সৌম্যদীপকে গ্রেপ্তারের কারণ কী? পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কিছু বলতে চাননি। হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথন আরও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

এই ঘটনায় যাদবপুর ক্যাম্পাসে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ছাত্ররা পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, তদন্ত দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই মামলার তদন্ত কী দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে সকলের চোখ এখন আদালতের দিকে।