সন্দেশখালির শাহজাহানের তিনটি গাড়ি নিলাম করতে চাইছে ইডি, শুরু হলো প্রক্রিয়া

সন্দেশখালির সরবেড়িয়ার এক সময়ের দাপুটে নেতা শেখ শাহজাহানের বিলাসবহুল গাড়িগুলো এবার নিলামের পথে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) রেশন দুর্নীতি, ইডি আধিকারিকদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে অভিযুক্ত শাহজাহানের তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছিল। এখন সেই গাড়িগুলোর নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি-র দাবি, রেশন দুর্নীতির টাকায় নগদে কেনা হয়েছিল এই তিনটি গাড়ি—একটি মাহিন্দ্রা থার, একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও এবং একটি হুডখোলা জিপ। গত বছর বাজেয়াপ্ত করার সময় এই গাড়িগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল প্রায় এক কোটি টাকা। ইডি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এই গাড়িগুলো সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিলামের প্রক্রিয়া শিগগির শুরু করতে ইডি ইতিমধ্যে কলকাতার বিশেষ আদালতে আবেদন জানিয়েছে।
গাড়ির বিশেষত্ব ও ব্যবহার
ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, শাহজাহান এই গাড়িগুলোর জন্য বিশেষ নম্বর প্লেট বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর কাছে ‘শুভ’ বলে বিবেচিত সংখ্যার ভিত্তিতে এই নম্বর প্লেটগুলো তৈরি করা হয়েছিল। বিশেষ করে হুডখোলা জিপটি তিনি ভিআইপি-দের নিয়ে প্রচারে বেরোতে ব্যবহার করতেন। এই গাড়িগুলো শাহজাহানের প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রতীক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল।
কেন নিলাম?
ইডি সূত্র জানিয়েছে, প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ) অনুযায়ী, বাজেয়াপ্ত হওয়া কোনও সম্পত্তি যদি পড়ে থেকে নষ্ট হয় বা তার মূল্য ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তবে তা বিক্রি করে সেই টাকা ফিক্সড ডিপোজিটে রাখা যেতে পারে। বর্তমানে শেখ শাহজাহান জেলবন্দি। তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে এই গাড়ি নিলাম থেকে পাওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। পরে সেই টাকা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে। ইডি-র পরিকল্পনা, গাড়ির পর শাহজাহানের অন্যান্য সম্পত্তিগুলোও নিলামে তোলা হবে।
ঘটনার পটভূমি
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলার তদন্তে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় শাহজাহানের বাড়িতে অভিযানে যান ইডি আধিকারিকরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তাঁরা হামলার শিকার হন। শাহজাহানের সমর্থকরা ইডি-র কয়েকজন অফিসারকে আহত করেন এবং তাঁদের গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর কিছুদিন পর সরবেড়িয়া মার্কেটের পাশের একটি গ্যারাজ থেকে তাঁর তিনটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করে ইডি।
গাড়ির বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে এই গাড়িগুলোর গায়ে ধুলোর পুরু স্তর জমেছে। গাড়িগুলোর ওপর ইডি-র বাজেয়াপ্ত করার নোটিস সাঁটা রয়েছে। সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এগুলোর অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, যা নিলামের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ইডি-র বিশেষ আদালতে আবেদনের পর গাড়ি নিলামের প্রক্রিয়া শিগগির শুরু হবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনা শাহজাহানের প্রভাবশালী অতীতের অবসান এবং তাঁর অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সন্দেশখালির এই ঘটনা রাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং গাড়ি নিলামের এই উদ্যোগ তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।