“গোটা দুনিয়া জানে সন্ত্রাসবাদের এপিসেন্টার কোনটা”-ট্রেন হাইজ্যাকে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন অপহরণের ঘটনায় ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। প্রথমে আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করেছিল তারা, এরপর টার্গেট করা হয় ভারতকে। তবে এই অভিযোগের যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত, পাকিস্তানের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন, “ভারত পাকিস্তানের ভিত্তিহীন অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থল কোনটি, তা সারা বিশ্ব জানে। পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতার জন্য অন্যের দিকে আঙুল না তুলে আত্মদর্শন করা।” এর মাধ্যমে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের উৎস কোথায়, তা গোপন নয়। পাকিস্তানকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অন্যকে দোষারোপের বদলে নিজ দেশের পরিস্থিতির উন্নতিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

অপহরণের ঘটনা: কী ঘটেছিল?

গত ১১ মার্চ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন অপহরণ করে। কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী এই ট্রেনে ৪০০-র বেশি যাত্রী ছিলেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং আইএসআই-এর সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা কর্মী। বিএলএ ট্রেনটি থামাতে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং অতর্কিত হামলা চালায়।

পাকিস্তান সেনা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫৫ জন যাত্রীকে মুক্ত করে। এই অভিযানে ২৭ জন বালোচ বিদ্রোহী নিহত হয়। তবে এই ঘটনায় প্রাণ হারান ২১ জন যাত্রী এবং চারজন পাক সেনা। বিএলএ দাবি করেছিল, তারা ২০০-র বেশি যাত্রীকে জিম্মি করেছে এবং বালোচ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিল।

পাকিস্তানের অভিযোগ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনার পর পাকিস্তান প্রথমে আফগানিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছিল। পরে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ দাবি করেন, বালোচ বিদ্রোহীরা ভারতের সমর্থন পাচ্ছে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই এই অভিযোগ করা হয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের ব্যর্থতা লুকাতে এই ধরনের অভিযোগ তুলছে। সন্ত্রাসবাদের মূল উৎস কোথায়, তা গোটা বিশ্বের কাছে পরিষ্কার।”

বেলুচিস্তানের অস্থিরতা

বেলুচিস্তানে বালোচ বিদ্রোহীদের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের দীর্ঘদিনের সংঘাত চলছে। বিএলএ-এর মতো গোষ্ঠী বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। তারা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক শোষণ ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছে। সম্প্রতি এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী হামলার সংখ্যা বেড়েছে, যা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে প্রকাশ করছে।

ভারতের অবস্থান

ভারত বরাবরই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জাফর এক্সপ্রেস অপহরণের ঘটনায় পাকিস্তানের অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করে ভারত স্পষ্ট করেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য ভারতকে দায়ী করা অযৌক্তিক। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছেও ভারতের এই অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, সন্ত্রাসবাদের মূল কারণ খুঁজতে হলে পাকিস্তানকে নিজের দিকে তাকাতে হবে।

এই ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং বেলুচিস্তানে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রতিফলন। ভারতের জবাবে স্পষ্ট, পাকিস্তানের উচিত অভিযোগের রাজনীতি ছেড়ে নিজেদের সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া।