“ক্ষমা চাইতে হবে …”-বিতর্কিত মন্তব্য করে বিপাকে হুমায়ুন, শোকজ করল তৃণমূল কংগ্রেস

তৃণমূল কংগ্রেসের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ফের দলের রোষের মুখে পড়েছেন। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে শোকজ করেছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুনকে। এই ঘটনার পাশাপাশি রাজ্যের শাসক দল মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকেও কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
বুধবার বিধানসভার বাইরে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি দাবি করেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি। এই লক্ষ্যে তাঁর দল প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরপরই তিনি এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “বিধানসভা থেকে চ্যাংদোলা করে মুসলিম বিধায়কদের ফেলে দেব।” এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়।
হুমায়ুনের পাল্টা হুঁশিয়ারি
শুভেন্দুর এই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন দিয়ে ক্ষমা চাওয়ার দাবি করেন। তিনি বলেন, “আমি একজন মুসলিম এলএলএ হিসেবে আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি। এই ৪২ জন বিধায়ক আপনাকে বিধানসভার ভিতরে, আপনার যে ঘর সেখানে বুঝে নেব। আপনি মন্তব্য প্রত্যাহার করুন। না হলে আমরাও বুঝে নেব।” এছাড়া তিনি মুর্শিদাবাদে গেলে শুভেন্দুকে “দেখে নেওয়ার” হুঁশিয়ারিও দেন।
দলের ক্ষোভ ও শোকজ
হুমায়ুনের এই মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। দলের সূত্র জানায়, এই মন্তব্যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ক্ষুব্ধ। তাঁর নির্দেশেই হুমায়ুনকে শোকজ করা হয়েছে। এদিকে, বিজেপি বিধায়করাও হুমায়ুনের এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে সরব হয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, এই ধরনের হুঁশিয়ারি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।
পূর্বের ঘটনা ও বর্তমান অবস্থান
এর আগেও বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য হুমায়ুন কবীরকে শোকজ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সে সময় তিনি দলের কাছে ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। তবে এবার শোকজ হওয়ার পর তিনি কীভাবে দলীয় নেতৃত্বের কাছে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাহীনতা এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব এই ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে এটিকে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চলছে। তবে হুমায়ুনের এই মন্তব্য এবং দলের পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
হুমায়ুন কবীরের জবাব এবং দলের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এখন সবার নজরে। এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন সময় বলবে।