মরিশাসে মোদির হাতধরে উদ্বোধন হল অটল বিহারী ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক সার্ভিস

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীনচন্দ্র রামগুলাম বুধবার যৌথভাবে ‘অটল বিহারী বাজপেয়ী ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড ইনোভেশন’ এর উদ্বোধন করেছেন। এটি একটি নতুন শিক্ষা, গবেষণা ও জনসেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স-এ একটি পোস্টে জানিয়েছেন, “ড. নবীনচন্দ্র রামগুলামের সঙ্গে আমি অটল বিহারী বাজপেয়ী ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেছি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে যা শিক্ষা, গবেষণা এবং জনসেবার ক্ষেত্রে নতুন ধারণা ও নেতৃত্ব তৈরির কাজ করবে। এটি ভারত এবং মরিশাসের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

এদিনের অনুষ্ঠানে, মোদি মরিশাসের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত হন। ভারী বৃষ্টি সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে তাদের নেতাকে এই সম্মান গ্রহণ করতে দেখতে সমবেত হন। পুরস্কার গ্রহণের সময় মোদি বলেন, “মরিশাসের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ। এটি শুধু আমার নয়, ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মান। এটি ভারত ও মরিশাসের শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক বন্ধনের প্রতি শ্রদ্ধা। এই পুরস্কার আঞ্চলিক শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিরও স্বীকৃতি।”

মোদি এই সম্মান ভারত থেকে মরিশাসে অভিবাসীদের উৎসর্গ করেছেন, যারা মরিশাসের বৈচিত্র্যে অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, “এই সম্মান আমি বিনম্রতা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি। এটি আমি আপনার পূর্বপুরুষদের উৎসর্গ করছি, যারা শতাব্দী আগে ভারত থেকে এসে মরিশাসের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। তাদের কঠোর পরিশ্রম মরিশাসের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে।”

এছাড়া, মোদি আরও জানিয়েছেন যে, ভারত-মরিশাস কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “এই সম্মান আমার কাছে একটি দায়িত্ব। আমরা ভারত-মরিশাস সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।”

এদিনের অনুষ্ঠানটি ভারত ও মরিশাসের মধ্যে দীর্ঘকালীন সম্পর্কের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে উভয় দেশ একসাথে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে।