“ছাত্র হলেও কোনও রিলিফ নয়”-যাদবপুরের ঘটনায় বড় নির্দেশ দিলো হাইকোর্ট

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক গোলমালের ঘটনায় পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত ছাত্রদের মোবাইল ফোন জমা রাখছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া, উদ্দীপন কুণ্ডু। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যেহেতু অভিযুক্তের নাম এফআইআর-এ রয়েছে, তাঁকে ছাত্র হলেও কোনও ছাড় দেওয়া হলে তা সমাজে ‘খারাপ বার্তা’ দেবে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

মোবাইল ফোন জমা নিয়ে বিতর্ক
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রদের মোবাইল ফোন জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এর বিরোধিতা করে উদ্দীপন কুণ্ডু হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন, “মোবাইল ফোন একটি ব্যক্তিগত ডিভাইস। এতে অনেক গোপনীয় তথ্য থাকে। সেগুলো জনসমক্ষে আনার বিরোধিতা আমরা করছি। সুপ্রিম কোর্টও মোবাইল ফোনকে ব্যক্তিগত ডিভাইস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে একজন ছাত্রকে হেনস্থা করছে। এটা কি গ্রহণযোগ্য?”

পাল্টা জবাবে বিচারপতি বলেন, “আপনার মক্কেলের নাম এফআইআর-এ রয়েছে। তিনি অভিযুক্ত। এই পরিস্থিতিতে আদালত কোনওভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না। তবে তিনি ছাত্র হওয়ায় মোবাইল জমা দেওয়ার পর পড়াশোনার জন্য নতুন ফোন কিনতে যাতে না হয়, সেটা পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে।” আইনজীবীদের একাংশের মতে, আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট যে অভিযুক্তকে ছাত্র বলে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে তা সমাজে ভুল বার্তা দেবে।

হাইকোর্টের রায় ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই মামলায় আদালত আরও জানিয়েছে, তদন্তে সহযোগিতার জন্য মোবাইল ফোন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও, পড়াশোনায় ব্যাঘাত যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে সব পক্ষকে তাদের হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

যাদবপুরে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আদালতের নির্দেশ
এদিকে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট গত সপ্তাহে নির্দেশ দিয়েছিল যে, ১৩ মার্চ পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুমতি ছাড়া করা যাবে না। তবে বুধবার আদালত সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করে জানায়, এখন থেকে রাজনৈতিক মিটিং বা মিছিলের জন্য প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। প্রশাসন আবেদন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, “এখন থেকে প্রশাসনই এই দায়িত্ব নেবে। আদালত আর এর মধ্যে থাকতে চায় না।”

গোলমালের পটভূমি
গত ১ মার্চ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, মন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় এক পড়ুয়া গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যেই বিজেপি মিছিলের অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে। আদালত প্রথমে ১৩ মার্চ পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, এখন সেই দায়িত্ব প্রশাসনের হাতে তুলে দিয়েছে।

চলছে তদন্ত, বাড়ছে বিতর্ক
পুলিশ বর্তমানে গোলমালের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চালাচ্ছে। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন জমা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে আদালতের কঠোর অবস্থানের পর এই বিষয়ে তদন্ত কী মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সবার।