“পাকিস্তানে এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাক”, গুলির লড়াইয়ে নিকেশ ১৬ জন জঙ্গি, ১০৪ জন পণবন্দিকে উদ্ধার

পাকিস্তানের বালোচিস্তানে ভয়াবহ ঘটনা। ৫০০ যাত্রী-সহ জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাক করল বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA)। যাত্রীদের পণবন্দি করে পাকিস্তানের প্রশাসনের বিরুদ্ধে শর্ত রাখে বিদ্রোহীরা। কিন্তু পাক সেনার হস্তক্ষেপে রাতভর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যাতে ১৬ জন বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। যদিও BLA এই দাবি অস্বীকার করেছে।

কীভাবে ট্রেন হাইজ্যাক করল BLA?

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানাচ্ছে, কোয়েটা থেকে পেশোয়ারগামী জাফর এক্সপ্রেস যখন বোলান জেলার পাহাড়ি টানেলে ঢোকে, তখনই BLA-র সদস্যরা অতর্কিতে হামলা চালায়।

🔹 প্রথমেই ট্রেনের ইঞ্জিন টার্গেট করে গুলি চালানো হয়।
🔹 ড্রাইভার আহত হয়ে ট্রেন থামিয়ে দেন।
🔹 রেললাইন বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
🔹 বিদ্রোহীরা ট্রেনের দখল নেয় এবং যাত্রীদের পণবন্দি করে।

রাতভর রণক্ষেত্র, ১০৪ জন পণবন্দি উদ্ধার

বিএলএ হুঁশিয়ারি দেয় যে, যদি সেনা অভিযান চলে, তবে যাত্রীদের হত্যা করা হবে। কিন্তু পাক বাহিনী অভিযান শুরু করলে দু’পক্ষের মধ্যে রাতভর গুলির লড়াই হয়।🔹 ১০৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৮ জন পুরুষ, ৩১ জন মহিলা ও ১৫টি শিশু রয়েছে।
🔹 BLA-র ১৬ বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে, দাবি সেনার।
🔹 তবে এখনও কতজন পণবন্দি রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

BLA-এর দাবিদাওয়া ও পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়াবিদ্রোহী গোষ্ঠী BLA দাবি করেছে:
বালোচিস্তানের রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে।
নিখোঁজ বালোচদের খুঁজে বের করতে হবে।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি না মানলে ট্রেন ধ্বংস করা হবে।

BLA সেনার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, ৩০ জন পাক জওয়ান নিহত হয়েছে। যদিও পাক প্রশাসন এই দাবি স্বীকার করেনি।

জাফর এক্সপ্রেস কেন বারবার বিদ্রোহীদের টার্গেট?🔹 ২০১৩, ২০১৮, ২০২৩, ২০২৪— একাধিকবার এই ট্রেনে হামলা হয়েছে।
🔹 বালোচ বিদ্রোহীরা বারবার এই ট্রেনকে নিশানা করেছে, কারণ এতে পাকিস্তানের সামরিক কর্মীরাও যাতায়াত করেন।
🔹 ২০২৩ সালে দু’বার জাফর এক্সপ্রেসে হামলা চালানো হয়েছিল, যার মধ্যে একবার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছিল।

বিদ্রোহ কেন? চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের ভূমিকাবালোচিস্তানের বিদ্রোহীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার দাবিতে লড়াই করছে। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্প শুরু হওয়ার পর বিদ্রোহ আরও বেড়েছে।

🔹 BLA অভিযোগ করে যে, বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট হচ্ছে।
🔹 চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক চুক্তির কারণে স্থানীয় জনগণ আরও বঞ্চিত হচ্ছে।
🔹 বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি গেরিলা কৌশলে হামলা চালিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে।

আগামী পদক্ষেপ কী?বালোচ বিদ্রোহীরা আগেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের হামলা চালানোর আশঙ্কা থাকছে। পাক সেনা যদি দ্রুত উদ্ধার অভিযান শেষ না করতে পারে, তাহলে যাত্রীদের জীবন বিপদের মুখে পড়বে। এই হাইজ্যাক পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় ফাঁকফোকরকেও সামনে এনে দিল।