Jio-হাইস্পিড ইন্টারনেট দিতে মাস্কের Starlink-র সঙ্গে চুক্তি, জেনেনিন রিচার্জে খরচ কেমন?

ভারতে স্যাটেলাইট ভিত্তিক হাই স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা Starlink আনতে এলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে দেশের দুই শীর্ষ টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেল। মঙ্গলবার (১১ মার্চ) এয়ারটেল এবং বুধবার (১২ মার্চ) জিও এই চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। তবে, এই পরিষেবা শুরুর জন্য স্পেসএক্সকে এখনও ভারত সরকারের একাধিক অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
রিলায়েন্স জিও জানিয়েছে, তারা Starlink-এর ডিভাইস বিক্রি, হার্ডওয়্যার সরবরাহ এবং ইনস্টলেশনে গ্রাহকদের সহায়তা করবে। এই পরিষেবা জিওর রিটেল আউটলেট এবং অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এর আগে মঙ্গলবার এয়ারটেলও একই ধরনের চুক্তির কথা জানিয়ে বলেছিল, তারা স্পেসএক্সের সঙ্গে মিলে ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য হাই স্পিড ইন্টারনেট নিয়ে আসবে। তবে, স্পেসএক্স এখনও ভারতে পরিষেবা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পায়নি। সমস্ত সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পরেই এই পরিষেবা শুরু হবে।
Starlink কী?
Starlink হল স্পেসএক্সের একটি স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যা মোবাইল টাওয়ার বা তারযুক্ত ব্রডব্যান্ডের প্রয়োজন ছাড়াই হাই স্পিড ইন্টারনেট সরবরাহ করে। এই প্রযুক্তি বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সক্ষম, যেখানে ঐতিহ্যবাহী ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছায় না। Starlink দীর্ঘদিন ধরে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করে আসছে এবং এবার জিও ও এয়ারটেলের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেই লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়েছে।
জিও ও স্পেসএক্সের প্রতিক্রিয়া
জিওর তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে গ্রুপ সিইও ম্যাথিউ ওমেন বলেন, “প্রতিটি ভারতীয়ের কাছে সাশ্রয়ী ও হাই স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া জিওর প্রধান অগ্রাধিকার। স্পেসএক্সের সঙ্গে এই চুক্তি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।” অন্যদিকে, স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট এবং চিফ অপারেটিং অফিসার গুইন শটওয়েল বলেন, “ভারতে ইন্টারনেট সংযোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য জিওর প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা জিওর সঙ্গে কাজ করতে এবং ভারত সরকারের অনুমোদন পেয়ে গ্রাহক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে হাই স্পিড ইন্টারনেট দেওয়ার জন্য উন্মুখ।”
Starlink কীভাবে কাজ করে?
Starlink পরিষেবা চালু করতে মহাকাশে হাজার হাজার লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হয়, যেগুলো পৃথিবী থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে। এই স্যাটেলাইটগুলি লেজার লিঙ্কের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং দ্রুত ডেটা আদান-প্রদান করে। গ্রাহকদের বাড়িতে একটি ছোট ডিশ বা Starlink টার্মিনাল ইনস্টল করতে হয়, যা স্যাটেলাইট থেকে সংকেত গ্রহণ করে। এই ডিশটি ওয়াইফাই রাউটারের সঙ্গে সংযোগ করে ঘরে ইন্টারনেট সরবরাহ করে।
ভারতের জন্য কী সুবিধা?
Starlink-এর এই প্রযুক্তি ভারতের গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগের মান উন্নত করতে পারে। দেশের অনেক গ্রাম এবং পাহাড়ি এলাকায় এখনও ফাইবার ব্রডব্যান্ড পৌঁছায়নি। Starlink এই অঞ্চলগুলিতে হাই স্পিড ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল ও হাসপাতালগুলি এর থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারে।
খরচ কত হবে?
আমেরিকায় Starlink-এর হার্ডওয়্যারের জন্য ৪৯৯ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৩,০০০ টাকা) এবং মাসিক সাবস্ক্রিপশনের জন্য ১১০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৯,০০০ টাকা) দিতে হয়। ভারতের জন্য এখনও প্ল্যান এবং দাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে, ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ করা না হলে এই পরিষেবা ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়া কঠিন হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ
জিও এবং এয়ারটেলের সঙ্গে স্পেসএক্সের এই চুক্তি ভারতের টেলিকম ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে, সরকারি অনুমোদন এবং স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। অতীতে জিও স্পেকট্রাম নিলামের পক্ষে ছিল, যেখানে স্পেসএক্স প্রশাসনিক বরাদ্দের পক্ষে। এই চুক্তি দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও, Starlink-এর ভারতে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশ এখনও নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রক বাধা অতিক্রম করার ওপর।
ভারতীয় গ্রাহকরা এখন অপেক্ষায় আছেন, কবে থেকে তারা এই অত্যাধুনিক পরিষেবার সুবিধা পাবেন। Starlink-এর আগমন ভারতের ডিজিটাল বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।