“৬৭ বছরে মারা যাবেন শাহরুখ!”- জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়

ভারতের খ্যাতনামা সেলিব্রিটি জ্যোতিষী সুশীল কুমার সিং সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ভবিষ্যদ্বাণী করে বলিউডে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। দেশটির বহু বিখ্যাত তারকার ভাগ্য গণনার জন্য পরিচিত এই জ্যোতিষী দাবি করেছেন, বলিউডের দুই কিংবদন্তি অভিনেতা শাহরুখ খান এবং সালমান খান ৬৭ বছর বয়সে মারা যাবেন। শুধু তাই নয়, সুশীল কুমারের আরও ভবিষ্যদ্বাণী, সালমান খান নাকি ‘তিলে তিলে শেষ হয়ে যাবেন’ এবং তার জীবনের শেষ দিনগুলো অত্যন্ত কষ্টে কাটবে।
সম্প্রতি সিদ্ধার্থ কান্নানের পডকাস্টে অংশ নিয়ে সুশীল কুমার বলেন, “শাহরুখ খানের সময় এখন ভালো চলছে। কিন্তু সালমানের জন্য ২৫, ২৬, ২৭ সাল খুব খারাপ যাবে। তার খুব বড় অসুখ হবে, যা থেকে সে সেরে উঠবে না। এমন একটি রোগে আক্রান্ত হবেন, যার নাম মুখে আনাও কঠিন।” তিনি আরও যোগ করেন, “একই সালে দুজনেই মারা যাবেন। সালমানের শেষ দিনগুলো খুব কষ্টের হবে।”
জ্যোতিষী সুশীল কুমারের দাবি, তিনি কোষ্ঠী বিচার করে এই ইঙ্গিত পেয়েছেন। তবে তার এই ভবিষ্যদ্বাণী শাহরুখ ও সালমানের বিশাল অনুরাগীদের মনে চিন্তার ছায়া ফেলেছে। এই তালিকায় রয়েছেন শাহরুখের সহ-অভিনেত্রী সুচিত্রাও। তিনি এই ভবিষ্যদ্বাণীর তীব্র সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সুচিত্রা জানিয়েছেন, “এ ধরনের ভুয়ো কথায় একেবারেই বিশ্বাস করা উচিত নয়। জ্যোতিষশাস্ত্রের নামে যারা এই ধরনের বুজরুকি করে, তাদের নিষিদ্ধ করা উচিত।” তিনি সুশীল কুমারের ভুলের উদাহরণও তুলে ধরেন। সুচিত্রার জন্ম নভেম্বর মাসে, কিন্তু এই জ্যোতিষী নাকি একটি অনুষ্ঠানে তার জন্ম মার্চ মাসে বলেছিলেন। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “এরা চ্যানেল কর্তৃপক্ষের হাতে ব্যবহৃত হয় তাদের সুবিধার জন্য। ভুলভাল কথা বলে সস্তায় প্রচার পাওয়ার চেষ্টা করেন।”
সুচিত্রার মতে, খ্যাতনামা ব্যক্তিদের নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা সবচেয়ে সহজ, কারণ তারা সাধারণত এসব বিষয়ে মাথা ঘামান না। তিনি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, “সস্তা প্রচারের জন্য সাধারণ মানুষের মনে এ ধরনের নেতিবাচক অপপ্রচার ছড়ানো অযৌক্তিক। এতে দ্রুত প্রচার মিললেও এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি রয়েছে।”
সুশীল কুমারের এই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে গুরুত্ব না দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ দুই তারকার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে এই বিতর্ক যে বলিউডে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, তা নিশ্চিত।