BigNews: পাকিস্তানে জঙ্গিরা হাইজ্যাক করলো ট্রেন, বন্দি হয়ে আছেন ৪০০ -র বেশি যাত্রী

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা একটি ট্রেনের চার শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করেছে। ট্রেনটিতে নারী ও শিশুসহ বহু যাত্রী রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে অভিযান শুরু করেছে।
জাফর এক্সপ্রেস নামে এই ট্রেনটি কোয়েটা থেকে খাইবার পাখতুনখোয়ার পেশোয়ারের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেনের নয়টি বগিতে প্রায় চার শতাধিক যাত্রী ছিলেন। লেভিস কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কাচ জেলার পেরু কানরি এলাকায় ট্রেনটি সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়। হামলাকারীরা প্রথমে রেললাইনে বিস্ফোরণ ঘটায় এবং পরে ট্রেনে গুলি চালায়। এরপর তারা চালককে আহত করে একটি সুড়ঙ্গের মধ্যে ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে।
পাকিস্তানের আফগানিস্তান ও ইরানের সীমান্তবর্তী এই পার্বত্য অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ট্রেনে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের তুমুল গোলাগুলি হয়। কোয়েটার রেলওয়ে কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাশিফ বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছেন, “ট্রেনে থাকা চার শতাধিক যাত্রী এখন বন্দুকধারীদের হাতে জিম্মি। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে।”
নিরাপত্তা বাহিনী চরম প্রতিকূল পার্বত্য পথ পেরিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সূত্রের খবর, সন্ত্রাসীরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে বিদেশ থেকে যোগাযোগ রাখছে। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
ট্রেন ছিনতাইয়ের এই ঘটনার পর বেলুচিস্তান সরকার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব সংস্থাকে সক্রিয় করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত দল এবং একটি উদ্ধার ট্রেন পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, সিবি ও কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রাদেশিক স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সিভিল হাসপাতালে সব চিকিৎসক ও প্যারামেডিক স্টাফকে ডাকা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে হাসপাতালের বেশ কিছু ওয়ার্ড খালি করা হয়েছে। এছাড়া, কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনে জাফর এক্সপ্রেসের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ তথ্য কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
এই ঘটনা বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতাকে আরও একবার সামনে এনেছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।