পাকিস্তানে ট্রেনের যাত্রীদেড় বন্দি করলো জঙ্গিরা, উদ্ধারে গিয়ে ১১ সেনা নিহত

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে ‘জাফর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে বন্দি যাত্রীদের উদ্ধার করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১১ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
মঙ্গলবার (১১ মার্চ) সকালে বেলুচ জঙ্গিরা জাফর এক্সপ্রেস নামে এই ট্রেনে গুলি চালিয়ে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর যাত্রীদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তবে এই অভিযানে সেনারা হতাহতের শিকার হন। বেলুচ লিবারেশন আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “১১ সেনা নিহত হয়েছে এবং একটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ১৮০ জনের বেশি মানুষ আমাদের বন্দি। আমাদের যোদ্ধারা জাফর এক্সপ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
বেলুচ জঙ্গিরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যদি ড্রোন থেকে হামলা অব্যাহত থাকে তাহলে এক ঘণ্টার মধ্যে সব বন্দিকে হত্যা করা হবে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ বলেছেন, “পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পুলিশ যদি কোনো ধরনের অভিযান চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে ১০০ জনেরও বেশি বন্দিকে হত্যা করা হবে। এই রক্তপাতের দায় পুরোপুরি দখলদার বাহিনীর ওপর বর্তাবে।”
এর আগে জিয়ান্দ বেলুচ এক বিবৃতিতে দাবি করেছিলেন, “যে কোনো সামরিক অভিযানের জবাব সমান শক্তিতে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ছয় পাক সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকশ যাত্রী আমাদের জিম্মায় রয়েছে। বেলুচ লিবারেশন আর্মি এই অভিযানের পূর্ণ দায় স্বীকার করছে।”
বেলুচিস্তানের রেলওয়ে বিভাগের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বোলান জেলার মুশকাফ এলাকায় ট্রেনটিতে হামলা হয়। এই পাহাড়ি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছেছেন, তবে ভূখণ্ডের প্রতিকূলতার কারণে সেখানে পৌঁছতে অসুবিধা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছে, যাতে সেনা সদস্য ও চিকিৎসকরা রয়েছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “যারা নিরীহ যাত্রীদের ওপর গুলি চালায়, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” বেলুচিস্তানের স্থানীয় প্রশাসন জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এবং সিবি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বেলুচ লিবারেশন আর্মি প্রায়ই এ ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে। এই ঘটনায় পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত রয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।