চলন্ত পুলকারে বিধ্বংসী আগুন, ১৪ শিশুর জীবন বাঁচাতে চালকের নজিরবিহীন লড়াই

শিলিগুড়ি, ১১ মার্চ ২০২৫: শিলিগুড়ির চম্পাসারি দেবীডাঙা এলাকায় এক চলন্ত পুলকারে ভয়াবহ আগুন লেগে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে চালকের দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বুদ্ধিমত্তার কারণে পুলকারে থাকা ১৪ জন শিশুকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। মাটিগাড়ার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ১৪ জন ছাত্রছাত্রীকে বাড়ি ফেরানোর জন্য পুলকারটি রওনা দেয়। চম্পাসারি দেবীডাঙা এলাকায় পৌঁছনোর পরই হঠাৎ পুলকারের ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয় এবং গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। গাড়ির চালক আক্রম বারা বিপদ আঁচ করে দ্রুত গাড়িটি থামান এবং শিশুদের নিরাপদে বের করে আনেন। এরপরই মুহূর্তের মধ্যে গোটা গাড়িটি দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
চালকের বুদ্ধিমত্তায় প্রাণ বাঁচল শিশুদের
চালক আক্রম বারা বলেন, “হঠাৎ ইঞ্জিনে বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়। আমি বুঝতে পারি গাড়িতে সমস্যা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থামিয়ে শিশুদের নিরাপদে বের করে আনি। এরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়।” চালকের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তৎপরতায় শিশুদের প্রাণ বেঁচে যায়।
অভিভাবকদের আতঙ্ক
ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন অভিভাবকরা। তারা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অভিভাবক সোমনাথ ঝা ও মিতা ঠাকুর বলেন, “খবর পেয়ে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। গাড়িতে আগুন লাগার খবর শুনে ছুটে এসেছি। চালকের তৎপরতায় শিশুদের প্রাণ বেঁচেছে, কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এমন গাফিলতি মেনে নেওয়া যায় না।”
স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
স্কুলের ইনচার্জ সুব্রত পালিত বলেন, “গাড়ির ফিটনেস টেস্ট করা হয়েছিল এবং প্রতিদিনই গাড়ি পরীক্ষা করা হয়। আজও পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে গাড়িটি ভাড়া করা ছিল। কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা আমরা খতিয়ে দেখব।”
পুলিশ ও দমকলের তৎপরতা
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছয় প্রধাননগর থানার পুলিশ ও দমকল বাহিনী। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রধাননগর থানার আইসি বিডি সরকার বলেন, “পুলকারে ১৪ জন শিশু ছিল। সবাই নিরাপদে আছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি।”
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তারা দাবি করেছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষের আরও সচেতন হওয়া উচিত।
শহরে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনায় গোটা শিলিগুড়ি শহরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং স্কুল ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি দাবি করেছেন। এই ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা ও যানবাহনের ফিটনেস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।