OMG! মিড ডে মিল রান্নার সময় ফাটলো প্রেশার কুকার, বাংলার স্কুলে চমকে দেয়া কাণ্ড

হুগলি জেলার পাণ্ডুয়ার শান্তিনগর বিবেকানন্দ নগর জিএসএফপি প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিল রান্নার সময় সাংঘাতিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে প্রেশার কুকার ফেটে দুই মিড ডে মিল কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের নাম মিলি দত্ত এবং আরতি লোহার। তাঁরা বর্তমানে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
এই স্কুলে প্রায় ২০০ জন পড়ুয়া রয়েছে। মঙ্গলবার তাদের জন্য মিড ডে মিলের মেনুতে ছিল ডাল এবং ঘুগনি। স্কুল সূত্রে জানা গেছে, সকালে প্রথমে ডাল সিদ্ধ করা হয়। এরপর প্রেশার কুকারে ঘুগনির জন্য মটর সিদ্ধ করতে দেওয়া হয়। এই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে প্রেশার কুকার ফেটে যায় এবং এর ঢাকনা ছিটকে পড়ে। ফুটন্ত ডাল ও গরম জল ছিটকে গিয়ে সামনে থাকা দুই কর্মীর চোখে-মুখে লাগে। এতে মিলি দত্ত ও আরতি লোহার গুরুতরভাবে আহত হন।
তৎক্ষণাৎ উদ্ধার ও চিকিৎসা
আহতদের চিৎকার শুনে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি দুই কর্মীকে উদ্ধার করে পাণ্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, “আহত দুজনের মধ্যে একজনের কপালে সেলাই পড়েছে। দুর্ঘটনার সময় ব্যবহৃত গ্যাস ওভেনটিও নষ্ট হয়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, কোনও পড়ুয়া এই ঘটনায় আহত হয়নি।” দায়িত্বপ্রাপ্ত এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, সম্ভবত প্রেশার কুকারের ঢাকনা ঠিকভাবে লাগানো ছিল না বা অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
চলছে তদন্ত
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। প্রেশার কুকারের গুণগত মান এবং রান্নার সময় নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং স্কুলে মিড ডে মিল প্রকল্পে আরও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষক-অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর স্কুলে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। অভিভাবকরা জানতে চেয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রান্নাঘরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।
এই দুর্ঘটনা মিড ডে মিল প্রকল্পে ব্যবহৃত সরঞ্জামের গুণগত মান এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। আহত দুই কর্মীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে স্কুল পরিবার ও এলাকাবাসী।