X-এর পরিষেবা বিঘ্নিত, “এর নেপথ্যে ইউক্রেন দায়ী?”- বিস্ফোরক দাবি ইলন মাস্কের

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X (সাবেক টুইটার)-এর পরিষেবা বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকবার বিঘ্নিত হয়। এই বিভ্রাটের জন্য সাইবার আক্রমণকে দায়ী করলেন সংস্থার সিইও ইলন মাস্ক। পাশাপাশি, তিনি দাবি করেন, হামলাটি ইউক্রেন থেকে চালানো হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন,‘ঠিক কী ঘটেছিল, তা আমরা জানি না। তবে এটা বড়সড় সাইবার হামলা, যা X-এর পুরো সিস্টেমকে থামিয়ে দিয়েছিল। হামলার জন্য ইউক্রেনীয় আইপি অ্যাড্রেস ব্যবহার করা হয়েছে।’
মাস্কের এই মন্তব্যের পরেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, তিনি মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ফলে, অনেকেই মনে করছেন, তাঁর এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
তবে, অন্য একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে “ডার্ক স্টর্ম” নামে এক প্যালেস্টাইনপন্থী হ্যাকার গোষ্ঠী এই সাইবার আক্রমণের দায় স্বীকার করেছে। এই গোষ্ঠীটি এর আগেও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালিয়েছে।
সোমবার বিশ্বজুড়ে X ব্যবহারকারীরা একাধিকবার সমস্যার সম্মুখীন হন। কিছু সময়ের জন্য প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তবে, কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিষেবা স্বাভাবিক হয়। মাস্ক জানিয়েছেন, আগেও X সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে, তবে এবার আক্রমণ আরও সংগঠিত ও সুপরিকল্পিত ছিল। তিনি ইঙ্গিত দেন, বড় গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের কোনো শক্তি এর পেছনে থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের এই অভিযোগ শুধুমাত্র সাইবার হামলার দিকেই ইঙ্গিত করছে না, বরং এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরপর থেকেই ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্ক কিছুটা শীতল।
এই ঘটনার ফলে সাইবার নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক কূটনীতি-র মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ইলন মাস্কের এই অভিযোগের জেরে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও অন্যান্য বিশ্বশক্তির প্রতিক্রিয়া কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়।