সাইবার থানার অফিসারকে ফোন করে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টের’ ফাঁদ, অবশেষে ধরা পড়লো প্রতারক

বর্তমানে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ নামক প্রতারণা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ভুয়ো আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ নাগরিকদের ফাঁদে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারকচক্র। তবে এবার শুল্ক দফতরের ভুয়ো আধিকারিক সেজে প্রতারণা করতে গিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এক প্রতারক। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া সাইবার থানায়। ধৃতের নাম শেখ শাহরুখ। পুলিশ তাকে মহারাষ্ট্র থেকে গ্রেফতার করেছে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া সাইবার থানার এক পুলিশ অফিসার একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনের ওপারের ব্যক্তি নিজেকে শুল্ক দফতরের আধিকারিক বলে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, ওই পুলিশ অফিসারের আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিদেশে মাদক পাচার করা হয়েছে।
এরপর প্রতারক হুমকি দেয়, যদি টাকা না পাঠানো হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ভিডিও কল করে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করার কথা জানায়। তবে এতে ঘাবড়ে না গিয়ে পুলিশ অফিসার নিজের পরিচয় প্রকাশ করেন। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতারক ফোন কেটে দেয়।
ঘটনার পরই তদন্তে নামে বাঁকুড়া সাইবার থানার পুলিশ। বিভিন্ন কল ট্র্যাক করে প্রতারক শেখ শাহরুখের নাম উঠে আসে। এরপর মহারাষ্ট্রে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, শেখ শাহরুখ এই ধরনের প্রতারণা চক্রের অন্যতম পান্ডা। তাকে জেরা করে আরও বেশ কয়েকজন প্রতারকের নাম পেয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছে। ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া পুলিশের একটি দল সংশোধনাগারগুলিতে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার বৈভব তেওয়ারি জানান, “শেখ শাহরুখকে জেরা করে আমরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি। বাকি সদস্যদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে—অচেনা নম্বর থেকে কোনও হুমকিমূলক কল এলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।নিজের আধার, প্যান বা ব্যক্তিগত তথ্য অপরিচিত কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।কোনও সরকারি আধিকারিক টাকা দাবি করলে বা ভিডিও কলের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করার ভয় দেখালে তা প্রতারণা বলে ধরে নিন।
এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রতারক চক্রকে বড়সড় ধাক্কা দিল। তবে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।