বিহারের স্কুলে আচমকা বোমা হামলা, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

বিহারের বৈশালী জেলার হাজিপুরের একটি বেসরকারি স্কুলে আচমকা বোমা হামলা এবং পাথর ছোঁড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়েছে স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায়, যা ইতিমধ্যেই পুলিশের হাতে পৌঁছেছে।

স্কুলে হামলা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

সূত্রের খবর, যখন স্কুলের স্বাভাবিক ক্লাস চলছিল, ঠিক তখনই বাইরে থেকে একের পর এক বোমা ছোঁড়া হতে থাকে। শুধু তাই নয়, টপাটপ পাথরও ছোঁড়া হয় স্কুলের দিকে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

এই ঘটনার পর স্কুলে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশকে খবর দেয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ তুলে দেয় তদন্তকারীদের হাতে।

তদন্তে নেমেছে পুলিশ, এখনো গ্রেফতার কেউ হয়নি

ঘটনার খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

পুলিশের অনুমান, এই হামলার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রতিশোধস্পৃহা থাকতে পারে। এছাড়া অন্য কোনো অসন্তোষের কারণে কেউ স্কুলে হামলা চালিয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কী বলছেন প্রশাসন ও স্থানীয়রা?

এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি, তাই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

একজন স্থানীয় অভিভাবক বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। স্কুলে যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে কোথাও নিরাপত্তা নেই।”

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক

স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, “এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ, দ্রুত দোষীদের খুঁজে বের করা হোক।”

আশঙ্কা: ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো ষড়যন্ত্র?

এই হামলার পিছনে কোনো গ্যাংওয়ার, প্রতিশোধস্পৃহা, অথবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ চিহ্নিত হয়নি।

বিহারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের হামলা সচরাচর দেখা যায় না। তাই প্রশাসনও এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।

শেষ কথা

এই ঘটনায় বিহারে স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দোষীরা দ্রুত ধরা না পড়লে আতঙ্ক আরও বাড়তে পারে। অভিভাবকদের একটাই দাবি—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিক।