মাত্র ১৫-২০ জন ছাত্র, বন্ধ হতে চলেছে একাধিক মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র! চিন্তায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা

ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত তলানিতে ঠেকায় বাঁকুড়ার সাতটি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র (এমএসকে) বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন। জেলার সাতটি ব্লকে অবস্থিত এই শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে গড়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্র থাকায় সেগুলির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) নকুলচন্দ্র মাহাত এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্লক প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যে সাতটি ব্লকে এই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলি বন্ধ হতে চলেছে, সেগুলি হল—
🔹 বাঁকুড়া-১
🔹 ওন্দা
🔹 কোতুলপুর
🔹 পাত্রসায়র
🔹 ইন্দাস
🔹 জয়পুর
🔹 তালডাংরা
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী ছাত্রসংখ্যা একেবারে কমে গেলে মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করার নিয়ম রয়েছে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বদলি করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠন যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখছে জেলা প্রশাসন। ব্লক প্রশাসন ও স্থানীয় পঞ্চায়েতদের সহযোগিতায় বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পড়ুয়াদের বিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া (ড্রপ আউট) রোধ করাও অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়াই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। জেলা শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক বলেন, “শহরের দিকে অভিভাবকরা ক্রমশ বেসরকারি স্কুলের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে সরকারি স্কুল ও শিক্ষা কেন্দ্রগুলিতে ছাত্র সংখ্যা কমছে।”
জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাঁকুড়ায় বর্তমানে—৩৬৮টি শিশু শিক্ষা কেন্দ্র (এসএসকে) চালু রয়েছে, যেখানে ছাত্রসংখ্যা ৮৩৬৪ জন।৬৭টি মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্র (এমএসকে) আছে, যেখানে মোট ৪০৭৫ জন পড়ুয়া রয়েছে।এসএসকে-তে শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন ৪২৮ জন এবং এমএসকে-তে ১৯৯ জন।
এই মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রগুলি একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমএসকে-তে ছাত্রসংখ্যা কেন কমছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। শিক্ষা দফতরের দাবি, সরকারি স্কুলের মানোন্নয়ন ও শিক্ষা পরিকাঠামোর উন্নতি করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এমএসকে বন্ধের এই সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক, তা নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এখন দেখার, প্রশাসন কীভাবে এই শিক্ষা সংকটের মোকাবিলা করে।