দুই সন্তানকে গলা টিপে মেরে স্বামী-স্ত্রী নিজেরাও আত্মঘাতী, কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত? তদন্তে পুলিশ

কলকাতার ট্যাংরা এবং কসবায় পরপর ঘটে যাওয়া আত্মহত্যার ঘটনার ছায়া এবার তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে। চরম আর্থিক সংকটের কারণে আত্মঘাতী হলেন এক দম্পতি, তাঁদের দুই সন্তানেরও দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের হাবসিগুড়ার রবীন্দ্রনগর কলোনিতে।
সোমবার রাতে ওই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৪৪ বছর বয়সী ব্যক্তি এবং তাঁর ৩৫ বছর বয়সী স্ত্রী—দুজনের ঝুলন্ত দেহ পাওয়া যায় আলাদা ঘরে। তাঁদের নাবালক পুত্র ও কন্যার দেহ বিছানায় পড়ে ছিল।
পুলিশের অনুমান, প্রথমে দুই সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেন দম্পতি, তারপর তাঁরা আত্মহত্যা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি মৃত ব্যক্তির লেখা। তিনি নোটে উল্লেখ করেছেন—
পরিবারটি তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছিল। তিনি নিজেই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। নিজের মৃত্যুর জন্য কারও ওপর দোষ চাপাননি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তি একটি প্রাইভেট কলেজের লেকচারার ছিলেন। তবে গত ৬ মাস ধরে তিনি কর্মহীন। এটাই তাঁদের আর্থিক সংকটের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার সঙ্গে কলকাতার সাম্প্রতিক ট্যাংরা ও কসবার মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনার মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।
ট্যাংরায় ঋণের দায়ে একই পরিবারের তিনজন আত্মঘাতী হন। কসবায় এক দম্পতি ও তাঁদের আড়াই বছরের সন্তান আত্মহত্যা করেন, কারণ সন্তানের চিকিৎসার জন্য তাঁরা বড় ঋণ নিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য গান্ধী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে। তবে একের পর এক এমন ঘটনায় আর্থিক সঙ্কট ও মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।