চা-বাগানের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, FIR করল প্রভিডেন্ট ফান্ড দফতর

জলপাইগুড়ির জয়পুর চা-বাগানের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিল প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) দফতর। শ্রমিকদের প্রাপ্য টাকা যথাযথভাবে জমা না দেওয়ার অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় FIR দায়ের করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি রিজিওনাল প্রভিডেন্ট ফান্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, চা-বাগানের মালিক মেসার্স জয়পুর টি এস্টেট দীর্ঘদিন ধরে ২৯২ জন শ্রমিকের বেতন থেকে অর্থ কেটে নিলেও তা PF অ্যাকাউন্টে জমা করেনি।
৭৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আইনি পদক্ষেপ
অভিযোগ অনুযায়ী, চা-বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বেতন থেকে ৭৭ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৩৮ টাকা কেটে নিলেও সেই অর্থ জমা দেয়নি। এটি সরাসরি শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন বলে মনে করছে PF দফতর। এই অনিয়মের প্রেক্ষিতে জয়পুর চা-বাগানের দুই ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪/৪০৬/৪২০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অন্যান্য চা-বাগানেও একই অবস্থা
শুধু জয়পুর চা-বাগান নয়, PF দফতরের নজরে এসেছে জলপাইগুড়ি জেলার আরও চারটি চা-বাগান। এসব বাগানেও শ্রমিকদের PF-এর টাকা বকেয়া রয়েছে। জলপাইগুড়ি রিজিওনাল PF কমিশনার পবন কুমার বনসাল জানিয়েছেন, “শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি। যারা PF-এর টাকা আত্মসাৎ করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্তে প্রশাসন, মালিকপক্ষের নীরবতা
কোতোয়ালি থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং PF দফতরের নথি সংগ্রহ করেছে। আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের ৬ মাস পর্যন্ত জেল হতে পারে। এদিকে, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার মিলিয়ে মোট ৩০টি চা-বাগানকে শোকজ করা হয়েছে এবং ৫০টি চা-বাগানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সিল করা হয়েছে।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার উমেশ খাণ্ডবাহালে গণমাধ্যমকে জানান, “জয়পুর চা-বাগান কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের PF জমা দেয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।” তবে চা-বাগান মালিকদের সংগঠন ITPA-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনও এই বিষয়ে কিছু জানে না।
শ্রমিকদের বঞ্চিত করার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের ফলে চা শিল্পে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অনিয়ম বন্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন PF দফতরের আধিকারিকরা।