“২৫ লক্ষের জন্য ১০ কোটি কেন বঞ্চিত?”- ভুয়ো জব কার্ড ইস্যুতে সংসদে প্রশ্ন তুললেন কল্যাণ

ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে গোটা দেশে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই বিষয়ে সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার (১১ মার্চ, ২০২৫) এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রধান প্রতিপক্ষ—তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। তৃণমূলের তরফে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ১০ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিজেপিও কমিশনের কাছে যাচ্ছে। এই আবহে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ডের অভিযোগ তুলে সংসদে সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
ভুয়ো ভোটার কার্ড নিয়ে সংঘাত
ভুয়ো ভোটার কার্ড ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ তুলছে যে, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতায় ভোটার তালিকায় জালিয়াতি করছে। দলের নেতারা দাবি করেছেন, বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলার ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম যুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগের জেরে তৃণমূলের ১০ সাংসদের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে। অন্যদিকে, বিজেপি পাল্টা অভিযোগ করেছে যে, তৃণমূলই ভোটার তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের নাম যুক্ত করছে। দুই পক্ষই নিজেদের দাবি নিয়ে কমিশনের শরণাপন্ন হচ্ছে।
১০০ দিনের কাজে ভুয়ো জব কার্ড বিতর্ক
এদিকে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বকেয়া টাকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বহুদিন ধরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে। বিশেষ করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অর্থ না দেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন। কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মমতা ও তৃণমূলের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের দাবি, ২০২২ সাল থেকে এই প্রকল্পের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র।
বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজে ২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করেছে তৃণমূল সরকার। তাদের বক্তব্য, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ তৃণমূলের “তোলাবাজরা” লুঠ করেছে এবং সরকারি প্রকল্পগুলোকে “স্ক্যামে” পরিণত করেছে। এই অভিযোগের জবাবে লোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যে ২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ডের কথা বলা হচ্ছে, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। এভাবে ভুয়ো কার্ডের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গের ১০ কোটি মানুষের সুবিধা বন্ধ করা যাবে না।” তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এই অভিযোগের সত্যতা কী?
দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন
প্রায় তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে থাকার অভিযোগ তুলে আসছেন মমতা। রাজ্য সরকার বারবার কেন্দ্রের কাছে অর্থ ছাড়ার আবেদন জানালেও, এখনও তা মঞ্জুর হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। অন্যদিকে, বিজেপি দাবি করছে, রাজ্যে দুর্নীতির কারণেই টাকা আটকে দেওয়া হয়েছে।
সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক
সংসদে এই দুই ইস্যু—ভুয়ো ভোটার কার্ড এবং ভুয়ো জব কার্ড—নিয়ে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা তুঙ্গে উঠেছে। কংগ্রেসের সমর্থন পেয়ে তৃণমূল এই বিষয়ে আরও সোচ্চার হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অধিকারের প্রশ্ন উঠে এসেছে। এদিকে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই পক্ষের বৈঠকের পর এই ইস্যুতে কী সিদ্ধান্ত হয়, সেদিকে তাকিয়ে গোটা দেশ।