হাইকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হলো গাছকাটা, আদালতের নির্দেশে খুশি কোতুলপুরের বাসিন্দারা

বাঁকুড়া জেলার কোতুলপুর ব্লকের সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েতের চোরগেড়ে এলাকায় প্রায় হাজার খানেক ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নিলাম করার পরিকল্পনা নিয়েছিল স্থানীয় পঞ্চায়েত। কয়েক লক্ষ টাকার এই গাছ কাটার উদ্যোগে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছেন। আদালতের নির্দেশে গাছ কাটার কারণ জানাতে বন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে। এই রায়ে মঙ্গলবার এলাকায় খুশির হাওয়া বইছে।
গাছগুলির ইতিহাস
চোরগেড়ে এলাকায় এই ইউক্যালিপটাস গাছগুলি ২০-২৫ বছর আগে স্থানীয় গ্রামবাসী এবং পঞ্চায়েতের উদ্যোগে রোপণ করা হয়েছিল। এই গাছগুলি এখন শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই করছে না, পাখিদের আশ্রয়স্থল এবং কৃষকদের বিশ্রামের জায়গা হিসেবেও কাজ করছে। গ্রীষ্মের দিনে গাছতলায় বসে কৃষকরা ক্লান্তি দূর করেন।
পঞ্চায়েতের পরিকল্পনা ও বিতর্ক
সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েত গাছ কেটে নিলামের জন্য টেন্ডার ডাকে। তবে এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, টেন্ডারে বরাত পাওয়া সংস্থা ২০০৬ সালের বন সংরক্ষণ আইন মানছে না। আইন অনুযায়ী, ইউক্যালিপটাস গাছ কাটতে হলে স্থানীয় ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারের (ডিএফও) অনুমতি প্রয়োজন। এই নিয়ম না মানার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা শেখ রফিকুল ইসলাম হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। তার আবেদনের পর গাছ কাটা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি পঞ্চায়েত নতুন করে টেন্ডার ডেকে গাছ কাটার উদ্যোগ নিলে ফের আইনি লড়াই শুরু হয়।
হাইকোর্টের নির্দেশ
সোমবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানি হয়। তিনি নির্দেশ দেন, গাছ কাটার কারণ ব্যাখ্যা করে ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে ডিএফও-কে আদালতে তলব করা হয়েছে। এছাড়া, গাছ কাটা বন্ধ রাখতে কোতুলপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
পঞ্চায়েত ও গ্রামবাসীর বক্তব্য
সিহড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সন্ধ্যা সাঁতরা জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য সব গাছ কাটা নয়, শুধু বড় গাছগুলি নিয়ে পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, “সরকারি অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা হবে না।” অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় টুডু আদালতের রায়ে খুশি প্রকাশ করে বলেন, “গাছ কাটলে পরিবেশ নষ্ট হবে। কৃষকদের ছায়া দেওয়া গাছগুলো না থাকলে এলাকা ন্যাড়া হয়ে যাবে। আমরা এই নির্দেশে স্বস্তি পেয়েছি।”
পরিবেশ রক্ষার লড়াই
গ্রামবাসীদের মতে, এই গাছগুলি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, তাঁদের জীবনযাত্রার অংশ। আদালতের এই স্থগিতাদেশকে তাঁরা পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে একটি জয় হিসেবে দেখছেন। এখন সবার নজর ১৮ মার্চের শুনানির দিকে, যেখানে গাছগুলির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।