“ধসে গেল মার্কিন বাজার”-ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাব কতটা পড়বে ভারতের মার্কেটে?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কাকে আরও গভীর করেছে। এই আশঙ্কা এড়াতে পারেনি আমেরিকার শেয়ার বাজার। সোমবার ওয়াল স্ট্রিটে রীতিমতো ধস নেমেছে। মার্কিন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচকগুলির পয়েন্ট হুড়মুড়িয়ে কমেছে। ন্যাসড্যাক ৪ শতাংশ, এস অ্যান্ড পি ৫০০ ২.৭ শতাংশ এবং ডাও জোনস প্রায় ৮৯০ পয়েন্ট কমেছে। এর জেরে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শেয়ার বাজার থেকে উধাও হয়েছে ৪ লক্ষ কোটি ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৪৯ লক্ষ ৪০ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা।

বাজারে অস্থিরতার শুরু
সোমবারের পতন গভীর হলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন শেয়ার বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এস অ্যান্ড পি ৫০০ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল, কিন্তু সেই শীর্ষ থেকে ৮ শতাংশ কমেছে। ন্যাসড্যাক গত ডিসেম্বরে অল টাইম হাইয়ে পৌঁছেছিল, সেখান থেকে ১০ শতাংশ পড়েছে। এই পতনের ফলে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার দরে বড় ধাক্কা লেগেছে। মাইক্রোসফ্ট, এনভিডিয়া, টেসলা, মেটা, এবং আলফাবেটের শেয়ার দর ৪ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে কমেছে।

ট্রাম্পের নীতি ও বাজারের প্রতিক্রিয়া
বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত পদক্ষেপ এই অস্থিরতার মূল কারণ। ক্যানাডা ও মেক্সিকোর উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ, চিনের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক, এবং বিভিন্ন দেশের পণ্যে রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফের হুমকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ছড়িয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিন ঘরোয়া বাজারে মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে তুলবে।

ভারতের বাজারে প্রভাব
মার্কিন বাজারের এই ধসের ছায়া মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজারেও পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনসেক্স এবং নিফটি৫০ নেগেটিভে শুরু হতে পারে। গিফ্ট নিফটি ইতিমধ্যেই মঙ্গলবার নিম্নমুখী রয়েছে। এর সঙ্গে ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ সরে যাওয়ার চাপ এখনও কমেনি। মার্কিন বাজারের এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য জটিলতা বাড়াতে পারে। আইটি এবং ফার্মা সেক্টরের স্টকগুলোর উপরও অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
বাজার বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, ট্রাম্পের শুল্ক নীতি আমেরিকার অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। শুল্কের ফলে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে, যা উৎপাদন খরচ এবং ভোক্তা মূল্যবৃদ্ধির দিকে ঠেলে দিতে পারে। এর পাশাপাশি, ক্যানাডা, মেক্সিকো এবং চিনের প্রতিশোধমূলক শুল্ক মার্কিন রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা বাজারে ধসের অন্যতম কারণ।