Share: ১৫% দাম পড়ল ইলন মাস্কের টেসলার, শেয়ার বাজারে ফেসবুক-গুগলের হাল কেমন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে একরোখা মনোভাব বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। শুল্ক যুদ্ধের আবহে আমেরিকার শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা মন্দার আশঙ্কাকে আরও তীব্র করেছে। ন্যাসড্যাক, এসঅ্যান্ডপি ৫০০, এবং ডাও জোনসের মতো প্রধান স্টক সূচকগুলির পয়েন্ট হুড়মুড়িয়ে কমেছে। এর পাশাপাশি টেসলা, মেটা, আলফাবেট, মাইক্রোসফ্টের মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ার দরও এক দিনে রেকর্ড পরিমাণে পড়েছে।

টেসলার শেয়ারে বড় ধাক্কা
ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন টেসলা, বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) উৎপাদক সংস্থা, সোমবার সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ দিন টেসলার শেয়ার দর ১৫.৪৩ শতাংশ কমে ২২২ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের পর এক দিনের নিরিখে এটি সবচেয়ে বড় পতন। গত সাত সপ্তাহ ধরে টেসলার শেয়ার দর ক্রমাগত কমছে, এবং গত তিন মাসে এটি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে ২০২৫ সালে টেসলার মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৮০০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। শুধু তাই নয়, গত কয়েক মাসে টেসলার গাড়ির বিক্রিও হ্রাস পেয়েছে। আমেরিকার একাধিক ব্রোকারেজ সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৫ সালে টেসলার ইভি বিক্রি ৫ শতাংশ কমতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাস্কের যোগসূত্রের পর থেকেই টেসলার শেয়ারে পতন শুরু হয়েছিল, এবং এ দিন তা আরও গভীর হয়েছে।

প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর প্রভাব
টেসলার পাশাপাশি মার্কিন মুলুকের অন্যান্য বড় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিও বাজার ধসের কবলে পড়েছে। এআই চিপ প্রস্তুতকারক এনভিডিয়ার শেয়ার দর ৫ শতাংশের বেশি কমে ১০৭ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটার শেয়ার দর ৪.৪২ শতাংশ কমে ৫৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দাম কমলেও মেটার শেয়ারে তুলনামূলকভাবে কম অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ওরাকেলের শেয়ার দর ৪.১১ শতাংশ কমে ১৪৮ মার্কিন ডলারে নেমেছে। মাইক্রোসফ্টের শেয়ার ৩.৩৪ শতাংশ কমে ৩৮০ ডলারে এসেছে। গুগলের মূল সংস্থা আলফাবেটের শেয়ার দরও ৪.৪১ শতাংশ কমে ১৬৭ মার্কিন ডলারে ঠেকেছে।

শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব
ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং তা কার্যকর করার একগুঁয়ে মনোভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কানাডা, মেক্সিকো এবং চিনের মতো বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে প্রতিশোধমূলক শুল্কের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর জেরে আমেরিকার অর্থনীতিতে মন্দার সম্ভাবনা বেড়েছে। সোমবার ন্যাসড্যাক ৪ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ২.৭ শতাংশ এবং ডাও জোনস ২.১ শতাংশ কমেছে। এই পতন গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার ধারাবাহিকতা, যা ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর থেকে তীব্র হয়েছে।

বাজারে অস্থিরতা
বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের ফলে আমদানি পণ্যের দাম বাড়বে, যা আমেরিকার কোম্পানিগুলির উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে। এর পাশাপাশি, প্রতিশোধমূলক শুল্কের ফলে আমেরিকার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা বাজারে ধসের অন্যতম কারণ। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই শুল্ক আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু বাজারের প্রতিক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি উল্টো ফল দিতে পারে।

শুল্ক যুদ্ধের এই আবহে আমেরিকার শেয়ার বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। টেসলার মতো সংস্থার ক্ষতি কোম্পানিগুলির উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতেও ছায়া ফেলবে।