“তৃণমূল থেকে মুড়িমুড়কির মতো নেতাদের নেওয়া ভুল হয়েছিল”- প্রকাশ্যেই বিস্ফোরক শুভেন্দু

রাজ্য রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য তৈরি হল। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডল। এই ঘটনায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর অস্বস্তি বাড়লেও, তিনি দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেছেন। শুভেন্দু স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘‘সিদ্ধান্ত আমি নিই না।’’

সোমবার এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘তৃণমূল থেকে কাউকে নেওয়ার মালিক আমি নই। কিন্তু বিজেপির হিন্দু ভোট ব্যাঙ্ক চায় না তৃণমূলের কোনো প্রথম সারির অত্যাচারী নেতাকে বিজেপিতে এসে টিকিট পাক বা নেতৃত্ব দিক।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘২০২১ সালে তৃণমূল থেকে মুড়িমুড়কির মতো নেতাদের নেওয়া ভুল হয়েছিল। এটা আমি বলছি না, পাবলিক বলছে। মুকুল রায়, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, প্রবীর ঘোষালের ক্ষেত্রে জনগণ ঠিক প্রমাণিত হয়েছে।’’

শুভেন্দু স্পষ্ট করে জানান, দলের সিদ্ধান্ত তিনি নেন না। তবে তাঁর এই মন্তব্যে রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কথাই ফুটে উঠেছে।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতারা ফের তৃণমূলে ফিরতে শুরু করেন। মুকুল রায়, সব্যসাচী দত্ত, সোমনাথ শ্যাম প্রমুখ নেতারা একে একে তৃণমূলের দিকে ফিরে যান। বিজেপিতে রয়ে যান শুভেন্দু অধিকারীসহ হাতে গোনা কয়েকজন।

রাজনৈতিক মহলের খবর, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির হারের পরই তৃণমূল থেকে যোগ দেওয়া নেতারা ফের তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এরই মধ্যে বিরোধী দলনেতা পদ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ও মুকুল রায়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কিন্তু দিল্লির নেতৃত্ব শুভেন্দুকেই সমর্থন জানায়। এরপরই মুকুল রায় ও তাঁর অনুগামীদের তৃণমূলে ফেরার পথ সুগম হয়।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পর রাজ্যে তৃণমূলসহ বিভিন্ন দল থেকে নেতারা বিজেপিতে যোগ দেন। তখন দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বাধীন রাজ্য বিজেপি বাছবিচার না করে একের পর এক নেতাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে। তবে পুরনো নেতাকর্মীরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং হতে পারে। কিন্তু সেই সময় দিল্লির নেতৃত্বের সমর্থনে দলবদলের ঢল চলতে থাকে।

তাপসী মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদানকে রাজ্য বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হলদিয়ায় তাঁর প্রভাব বিস্তৃত, এবং এই ঘটনায় বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী যদিও দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন, কিন্তু এই ঘটনায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

তাপসী মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদান এবং শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকেই সামনে নিয়ে এসেছে। আগামী দিনে দল কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে, তা দেখার বিষয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির উচিত দলীয় সংহতি বজায় রেখে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপর ভরসা করা। নইলে রাজ্যে দলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।