ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাব ভারতের শেয়ার বাজারেও? সকাল থেকেই নিম্নমুখী সেনসেক্স-নিফটি

আমেরিকার শেয়ার বাজারে সোমবার প্রবল ধসের ঘটনা ঘটেছে। বাজার খোলার পরপরই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ৮ শতাংশ পতনের মুখ দেখেছে, অন্যদিকে ডো জোন্স এবং ন্যাসড্যাক সূচকে ১০ শতাংশেরও বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে। এই ধসের সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেকনোলজি স্টকগুলি। টেসলার শেয়ার একদিনে ১২৫ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে, যেখানে অ্যাপেল ও এনভিডিয়ার শেয়ারে ৫ শতাংশের পতন হয়েছে। এই ঘটনার প্রভাব কি ভারতের শেয়ার বাজারেও পড়বে? এই প্রশ্ন এখন বিনিয়োগকারীদের মনে ঘুরছে।
মার্কিন অর্থনীতির দুরবস্থা, মুদ্রাস্ফীতি, চড়া সুদের হার এবং শুল্ক যুদ্ধের (Tariff War) জেরে বিশ্ব বাণিজ্যে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা, মেক্সিকো, চিন ও ইউরোপের সঙ্গে যে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেছেন, তা বাজারে তীব্র অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক মন্দার (Recession) ভয়ই বিনিয়োগকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করছে। ওয়াল স্ট্রিটে এই ‘রক্তক্ষরণ’ শুধু আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর প্রভাব ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও পড়েছে।
ভারতীয় শেয়ার বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা
ভারতীয় শেয়ার বাজারের জন্য এই ঘটনা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে, কারণ এই সেক্টর মার্কিন বাণিজ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারতীয় শেয়ার বাজারে বিদেশি বিনিয়োগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ তুলে নেন বা পিছু হটেন, তাহলে দালাল স্ট্রিটেও রক্তক্ষরণ অনিবার্য। মঙ্গলবার বাজার খোলার সময় সেনসেক্স এবং নিফটি লালের ঘরেই শুরু হয়েছে। সেনসেক্স ০.৫০ শতাংশ কমে ৭৩,৭৪৩.৮৮ পয়েন্টে এবং নিফটি ০.৪৮ শতাংশ কমে ২২,৩৫৩.৫৫ পয়েন্টে খুলেছে।
বিশ্ববাজারে প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় শেয়ার বাজারগুলিতে ইতিমধ্যেই এর প্রভাব দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকেও পতন লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন বাজারের এই ধস বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুল্কযুদ্ধের ফলে বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা কোম্পানির আয় এবং ভোক্তাদের খরচে প্রভাব ফেলতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, আইটি সেক্টর ছাড়াও ব্যাঙ্কিং এবং অটোমোবাইল খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে। একজন বিশ্লেষক জানান, “বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এখন নেতিবাচক। যদি তারা বিনিয়োগ কমায় বা তুলে নেয়, তাহলে ভারতীয় বাজারে অস্থিরতা বাড়বে।” তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি সুযোগ হতে পারে, যদি বাজার স্থিতিশীল হয়।
বাজারের ভবিষ্যৎ
মার্কিন শেয়ার বাজারের এই ধসের পেছনে শুল্কযুদ্ধ ছাড়াও মুদ্রাস্ফীতি এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি যদি আরও কঠোর হয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা আরও বাড়বে। ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের এখন নজর থাকবে আগামী কয়েকদিনের বাজারের গতিবিধি এবং বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহের ওপর। ওয়াল স্ট্রিটের এই সংকট কি দালাল স্ট্রিটে ছায়া ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।