শেয়ার বাজার খোলার আগেই বিশ্বজুড়ে নামল ‘ধস’! নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াল আমেরিকা?

সপ্তাহের শুরুতেই বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে ধস নামল। সোমবার ভারতের দালাল স্ট্রিট থেকে শুরু করে আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিট পর্যন্ত প্রায় সবক’টি বাজারই লাল নিশানে ডুবে গিয়েছে। সেনসেক্স একদিনে ৫১০ পয়েন্ট (০.৬৯%) এবং নিফটি ৯২ পয়েন্ট হারিয়েছে। এই ধসের পেছনে মূল কারণ হিসাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে।

মার্কিন শেয়ার বাজার ওয়াল স্ট্রিটে সোমবার হুড়হুড় করে শেয়ার বিক্রি শুরু করেন বিনিয়োগকারীরা। এর জেরে ডাউ জোন্স ৪০০ পয়েন্টের বেশি হারায়। এই ধসের প্রভাব সরাসরি পড়ে এশিয়া ও ইউরোপের বাজারে। ভারতেও সোমবার সেনসেক্স ও নিফটিতে ব্যাপক পতন দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চিন, মেক্সিকো ও কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধের ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি তিনি চিন থেকে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের জেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে ট্রাম্প এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘‘আমেরিকার অর্থনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে। আমরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সম্পদ ফিরিয়ে আনছি।’’

গত ছয় মাস ধরে ভারতের শেয়ার বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা (এফপিআই)। ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তারা। সোমবারও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এর ফলে সেনসেক্স ও নিফটিতে ব্যাপক পতন দেখা দেয়।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতি বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। আমেরিকার বাজারে ধসের প্রভাব সরাসরি পড়ছে অন্যান্য দেশের উপর। ভারতের মতো উদীয়মান বাজারগুলি ইতিমধ্যেই বিদেশি বিনিয়োগ হারানোর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আরও আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি এই ধস অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।

মঙ্গলবার ভারতীয় শেয়ার বাজার খোলার আগেই এশিয়ার অন্যান্য বাজারে ধসের প্রভাব দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার বাজারে এই ধস চলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে সতর্কতা বজায় রেখে বিনিয়োগ করতে।

এদিকে, ট্রাম্পের আশ্বাস সত্ত্বেও ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারের এই ধস কি আরও গভীর সংকটের ইঙ্গিত? উত্তর হয়তো আগামী দিনের বাজারের গতিপ্রকৃতিতেই লুকিয়ে রয়েছে।