‘নিয়মিত রাতে…এ কেমন বউমা এনেছিলাম’, বৌমার কান্ড মানতেই পারছেন না শশুর

কুমোরটুলি ঘাটে মৃতদেহ নিয়ে গ্রেফতার হওয়া মা-মেয়ে ফাল্গুনী ঘোষ ও আরতি ঘোষের একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। পিসিশাশুড়ি সুমিতা ঘোষকে খুন ও তাঁর গয়না বিক্রির অভিযোগে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন মা-মেয়ে। এবার ফাল্গুনীর শ্বশুর সুবল ঘোষের মুখে উঠে এল তাঁর মদ্যপান, মিথ্যা পরিচয় এবং পারিবারিক কলহের নানা অজানা দিক।
ফাল্গুনীর শ্বশুর সুবল ঘোষ অসমের জোরহাট থেকে সোমবার মধ্যমগ্রাম থানায় এসে তদন্তকারী পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ফাল্গুনী সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। সুবল ঘোষ বলেন, ‘‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ফাল্গুনীকে পুত্রবধূ হিসেবে বেছে নেওয়া। আমি কখনো ভাবিনি সে এমন কাজ করতে পারে।’’ তিনি আরও জানান, ২০১৮ সালে একটি ম্যাট্রিমনি ওয়েবসাইটে ফাল্গুনীর প্রোফাইল দেখে ছেলে শুভঙ্করের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক করেন। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নানা সমস্যা শুরু হয়।
সুবল ঘোষের দাবি, বিয়ের সময় ফাল্গুনী ও তাঁর মা আরতি ঘোষ তাদের পারিবারিক পটভূমি সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ফাল্গুনীর বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন এবং ফাল্গুনী টিউশনি করে সংসার চালান। কিন্তু সুবল ঘোষ এখন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, ফাল্গুনীর বাবার মৃত্যু নিয়েও তাঁদের বলা গল্প সত্যি কিনা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফাল্গুনী নিয়মিত মদ্যপান করতেন। সুবল ঘোষ বলেন, ‘‘প্রথমে বুঝতে পারিনি, কিন্তু পরে জানতে পারি ফাল্গুনী নিয়মিত মদ খেত। একবার তো পাড়ার মণ্ডপে মদ্যপান করে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। পাড়ার লোকেরা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিল।’’ তিনি আরও জানান, তাঁর ছেলে শুভঙ্কর সব জানলেও পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য কখনোই বিষয়টি প্রকাশ করেননি।
গত সপ্তাহে কুমোরটুলি ঘাটে একটি ট্রলিব্যাগে সুমিতা ঘোষের মৃতদেহ পাওয়া যায়। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ফাল্গুনী ও তাঁর মা আরতি সুমিতাকে খুন করেছেন। এরপর তাঁর গায়ের গয়না খুলে বিক্রি করে দেন। এই ঘটনায় ফাল্গুনী ও আরতিকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার আদালত ফাল্গুনীকে আরও তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর মা আরতি ঘোষ বর্তমানে জেলে রয়েছেন।
সুবল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই হত্যাকাণ্ডের দোষীদের চরম শাস্তি চান তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। যারা এই নৃশংস কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হবে।’’
এই ঘটনায় কলকাতা ও আশেপাশের এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ফাল্গুনী ও তাঁর মা আরতির বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ হতে থাকায় পুলিশের তদন্তও জোরকদমে চলছে। এখন প্রশ্ন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কী কী অন্ধকার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? উত্তর মিলতে পারে আগামী দিনের তদন্তে।