ঘর থেকে উদ্ধার কোরিয়ার জনপ্রিয় গায়ক হুইসাংয়ের দেহ, তারকার মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া

কোরিয়ান সঙ্গীত জগতের খ্যাতনামা শিল্পী হুইসাংয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীরভাবে শোকাহত। হুইসাংয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শিল্পীর আকস্মিক প্রয়াণে পরিবার ও তাঁর কাছের বন্ধুরা গভীরভাবে শোকাহত। যাঁরা হুইসাংকে ভালোবেসেছেন, সেই সকল অনুরাগীদেরকে তাঁর মৃত্যুর খবর জানাতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই, হুইসাংয়ের স্মৃতি অনুরাগীদের মনের মধ্যে চিরন্তন থাকুক। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, শিল্পীর শোকাহত পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গুজব বা অনুমানমূলক প্রতিবেদন থেকে দূরে থাকতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সঙ্গীত জগতে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার
হুইসাং ১৯৮২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। ২০০২ সালে তিনি গানের জগতে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ‘ইনসমনিয়া’, ‘কান্ট উই’, ‘উইথ মি’-র মতো সুপারহিট গান। এছাড়াও তিনি ‘লাইক আ মুভি’, ‘ইট’স রিয়েল’, ‘ফর দ্য মোমেন্ট’-এর মতো স্টুডিও অ্যালবাম এবং ‘দে আর কামিং’, ‘দ্য বিস্ট ম্যান’, ‘ইন স্পেস’-এর মতো মিনি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। দেশ-বিদেশে একাধিক কনসার্ট করেছেন এই শিল্পী। মার্চের ১৫ তারিখ গায়ক কেসিএমের সঙ্গে কনসার্টের কথা ছিল হুইসাংয়ের। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে যায়।

মাদক বিতর্কে জড়িয়েছিলেন হুইসাং
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই হুইসাং বেশ কয়েকটি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৩ সালে জনসমক্ষে ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময় আদালতে হুইসাং জানান, তিনি চুল পড়া ও অন্যান্য সমস্যার জন্য ‘প্রোপোফল’ নামের এক ইনজেকশন ব্যবহার করেন। আদালত থেকে তিনি সেই সময় সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি পান।

২০২০ সালের ৩১ মার্চ, সিওলের একটি শপিং মলের বাথরুম থেকে ইটোমিডেট ব্যবহারের পর হুইসাংকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর পাশে চারটি সিরিঞ্জ এবং পাঁচটি সাদা শিশি ভর্তি একটি কালো ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ তাঁকে ছেড়ে দিলেও কালো ব্যাগের জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। একই দিনে, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই হুইসাংয়ের কাছে ড্রাগ বিক্রি করা ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০২০ সালের ২ এপ্রিল, সিউলের গোয়াংজিন জেলার একটি হোটেলের বাথরুমে হুইসাংকে আবারও অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর কাছে একটি সিরিঞ্জ এবং একটি কাচের বোতলে ইটোমিডেট ড্রাগ ছিল বলে জানা যায়। যদিও তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়, চুল এবং প্রস্রাব পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

২০২১ সালের ১৯ জানুয়ারি মাদক দ্রব্য ব্যবহারের কারণে হুইসাংয়ের বিরুদ্ধে দায়েগু জেলা আদালতের প্রসিকিউটররা তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানায়। এরপর শিল্পী নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দুই বছর প্রবেশনেও রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁকে ৪০ ঘন্টা সমাজসেবা এবং ৪০ ঘন্টা মাদক চিকিৎসার বক্তৃতা দেওয়ার সাজা দেওয়া হয়।

মৃত্যুর কারণ তদন্তাধীন
হুইসাংয়ের মৃত্যুর কারণ এখনও অস্পষ্ট। অতিরিক্ত মাদক ব্যবহারের কারণেই কি তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত মাসে কোরিয়ান অভিনেতা কিম সে-রনকেও সিউলে তাঁর বাড়িতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ‘আ ব্র্যান্ড নিউ লাইফ’ এবং ‘দ্য ম্যান ফ্রম নোহোয়ার’-এর মতো সিনেমার জন্য পরিচিত ছিলেন।

হুইসাংয়ের মৃত্যু কোরিয়ান বিনোদন জগতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর সঙ্গীত ও শিল্পকর্ম অনুরাগীদের হৃদয়ে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।