“ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কের বদলা..?”- ইউক্রেন থেকে ভয়ঙ্কর হামলার অভিযোগ ইলন মাস্কের

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনেই দু’জনের উত্তপ্ত বিতর্কের ঘটনা সাড়া ফেলেছিল বৈশ্বিক মহলে। এর মাত্র এক সপ্তাহ পরেই এবার সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ইলন মাস্ক। তাঁর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ গত কয়েকদিন ধরে চলেছে একাধিক সাইবার হামলা। যা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন স্বয়ং মাস্ক। তবে এই হামলার পেছনে কে বা কারা? প্রথমে সন্দেহের তীর ঘুরেছিল জেলেনস্কি-অনুগামীদের দিকে, কিন্তু পরবর্তীতে চমক দেওয়া দাবি উঠেছে প্যালেস্টাইন-পন্থী এক গ্রুপের তরফে।
গত ৮ মার্চ ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছিলেন জেলেনস্কি। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দু’নেতার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। সাংবাদিকদের সামনেই ট্রাম্প ইউক্রেনকে সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন, যা নিয়ে জেলেনস্কি সরাসরি প্রতিবাদ জানান। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়ায়। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর, সোমবার এক সাক্ষাৎকারে ইলন মাস্ক জানান, তাঁর মালিকানাধীন এক্স প্ল্যাটফর্মে গত কয়েকদিনে একের পর এক সাইবার হামলা হয়েছে। এই হামলার উৎপত্তি স্থল হিসাবে শনাক্ত হয়েছে ইউক্রেন সংলগ্ন অঞ্চল। মাস্কের এই বক্তব্যে প্রথমেই জেলেনস্কি-সমর্থকদের প্রতি সন্দেহ জাগে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির সাম্প্রতিক বিরোধকে প্রেক্ষাপট হিসাবে দেখছিলেন বিশ্লেষকরা।
সোমবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, ‘‘এটি কোনো সাধারণ সাইবার হামলা নয়। আমাদের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই আক্রমণের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে গোটা এক্স প্ল্যাটফর্মই অচল হয়ে যেতে পারত।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘প্রতিদিনই আমরা নানা হামলা মোকাবিলা করি, কিন্তু এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আক্রমণের উৎস অনুসন্ধান করে আমরা পেয়েছি, এটি ইউক্রেনের কাছাকাছি কোনো অঞ্চল থেকে পরিচালিত হয়েছে।’’ মাস্কের এই মন্তব্যের পরই জেলেনস্কি প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের অভিযোগ ওঠে।
তবে ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে সোমবার রাতেই। একটি পাবলিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে ‘প্যালেস্টাইন সাইবার আর্মি’ নামে এক দল হামলার দায় স্বীকার করে। তাদের দাবি, ইসরায়েলকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সমর্থন দেওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। টেলিগ্রাম পোস্টে তারা লিখেছে, ‘‘আমরা এক্স প্ল্যাটফর্মকে বেছে নিয়েছি, কারণ এটি পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার হাতিয়ার।’’ এই দলটির অতীতেও ইসরায়েল-সমর্থক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে সাইবার হামলার ইতিহাস রয়েছে।
ইলন মাস্কের সংস্থা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্যালেস্টাইনি গ্রুপের দাবি নিশ্চিত করেনি। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামলার পদ্ধতি ও উৎস পরীক্ষা করে দেখতে হবে আসল হ্যাকাররা কারা। অন্যদিকে, ইউক্রেন সরকার এই ঘটনায় কোনো মন্তব্য এড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প-জেলেনস্কির উত্তপ্ত সম্পর্ক এবং ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব— দু’টি ইস্যুই এই হামলার পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সত্য যাই হোক, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সাইবার যুদ্ধের জটিলতারই প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।